ঢাকা, রোববার   ২৬ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১২ ১৪২৯

কেমন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৪, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ‌প্রতিনিয়তই   ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে। আজ যা বর্তমান আগামীতে সেটাই হবে ইতিহাস। আজকের দিনটিকে নিয়ে তেমনই একটি ইতিহাসের সন্ধান মিলবে। ১৯৭৪ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয়। কেমন ছিল স্বাধীন দেশের সেই আদমশুমারি?

আদমশুমারি হচ্ছে সরকারিভাবে একটি দেশের জনসংখ্যার গণনা। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে আদমশুমারি একটি জনগোষ্ঠীর বা দেশের জনসংখ্যা গণনার সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহ। তথ্য একত্রীকরণ এবং জনমিতিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক তথ্যাদি প্রকাশ করা। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী আদমশুমারিতে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ থাকা প্রয়োজন যথা, প্রতিটি ব্যক্তির তথ্য গণনা, একটি চিহ্নিত এলাকায় সামষ্টিক গণনা, একই সঙ্গে সারাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা।

স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম আদমশুমারি কবে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। প্রথম আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার। – জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৪৮। তখন মুসলমান জনসংখ্যা ছিল ৮৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিল শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ছিল শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ছিল শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৮৭২ সালে বাংলার প্রথম আদমশুমারি পরিচালিত হয়। কিন্তু মানুষের সন্দেহ ও দ্বিধার কারণে প্রথম আদমশুমারি লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে পারেনি। লক্ষ্য অর্জনে সফল না হলেও এই আদমশুমারি থেকেই বাংলা একটি মুসলিম প্রধান রাজ্যরূপে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী আদমশুমারিসমূহ ১৮৮৯ এবং ১৮৯১ সালে অনুষ্ঠিত হয়। যা গুণগতভাবে ১৮৭২ সনের আদমশুমারির তুলনায় অনেক উন্নতমানের ছিল। জনমিতি বিশারদদের মতে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দুইটি আদমশুমারি গুণগতভাবে যথেষ্ট ভালো ছিল।

১৯৩১ এর আদমশুমারি আংশিকভাবে এবং ১৯৪১-এর আদমশুমারি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারায় তথ্যের ইচ্ছাকৃত বিকৃতির কারণে। হিন্দু ও মুসলমান, উভয় ধর্মের মানুষই তাদের স্ব স্ব ধর্মের পক্ষে মিথ্যা তথ্য দেয়। অন্যদিকে পূর্ববাংলার (পূর্ব পাকিস্তান) প্রথম আদমশুমারি একটি ভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে। ভারতবর্ষ ও পূর্ববাংলার মধ্যে দ্বিমুখী ব্যাপক মাইগ্রেশনের কারণে বিভিন্ন জেলার লোকসংখ্যার গণনা দুরূহ সমস্যায় পড়ে। সেই তুলনায় ১৯৬১-এর আদমশুমারি ১৯০১ পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

১৯৫১ এবং পরবর্তী আদমশুমারিসমূহের এক বা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের সংখ্যা প্রতিটি আদমশুমারিতেই কম দেখানো হয়। ১৯৫১-এর আমদশুমারি সুবিন্যস্তভাবে পরিচালিত হয়নি এবং জাতীয়ভাবে শুমারি পরবর্তী নিরীক্ষা জরিপও পরিচালিত হয়নি। ১৯৫১-এর আদমশুমারিতে শহর এলাকায় ৫ শতাংশ মানুষ কম গণনা করা হয়েছে বলে ধরা হলেও বাস্তবে তা আরো অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে, জাতীয় পর্যায়ে ৪ শতাংশ মানুষ ১৯৫১-এর আদমশুমারিতে কম ধরা হয়েছে অনুমান করে মোট জনসংখ্যার নতুন হিসেব দেখানো হয়। এই আদমশুমারির মোট জনসংখ্যা যে কারণে প্রভাবিত হয়েছিল তারমধ্যে ছিল ১৯৪১ পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক নেট মাইগ্রেশন (বহির্গমন বেশি, আগত কম) সাধারণভাবে ১৯৬১-এর আদমশুমারিতে খুব ভালোভাবে পরিচালিত বলা হলেও বাদপড়া মানুষের সংখ্যা ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ ধরে মোট জনসংখ্যা পূণর্বিন্যাস করা হয়। ১৯৭৪-এর শুমারি পরবর্তী নিরীক্ষা জরিপের ভিত্তিতে চারটি প্রধান শহরাঞ্চলে বাদপড়া মানুষের সংখ্যা ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হয়। অন্যান্য অঞ্চলে তা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়। মোট জনসংখ্যা ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ বাদপড়া মানুষের জন্য পুনর্বিন্যস্ত করা হয়। ১৯৮১ এর আদমশুমারিতে মোট জনসংখ্যার ৩ দশমিক ১ শতাংশ গণণা করা হয়নি ধরে পুনর্বিন্যস্ত করা হয়। ১৯৯১-এর আদমশুমারিতে মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ গণনা করা হয়নি বলে ধরা হয়। ২০০১ এর আদমশুমারিতে মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ গণনার আওতায় আনা যায়নি বলে ধরা হয়।

১৯৭৪ সালে আদমশুমারি অনুযায়ী ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১৬ লাখ। বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে তখন এই শহরের জনসংখ্যা দুই কোটির বেশি। এ শহর তো দেশের একটি উদাহরণ কেবল। প্রতিদিনই বাড়ছে দেশের জনসংখ্যা। জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়