ঢাকা, বুধবার   ২৭ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১১ ১৪২৮

দেশে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল চালু করবে সরকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২০, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশের ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা এখন প্রায় ১২ কোটি। ইন্টারনেট নির্ভরতা বাড়ছে সরকারি-বেসরকারি বেশিরভাগ খাত ও প্রতিষ্ঠানের। তাই এই সেবাকে নিরবচ্ছিন্ন করতে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল তৈরি করতে চায় সরকার। সেই লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়েছে।

আর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সম্প্রতি সি-মি-উই-৬ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেইটেনেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট এবং কনসোর্টিয়ামের সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। এর মধ্য দিয়ে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) আয়োজনে, চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। 

এ সময় তিনি আশাবাদ জানান, ২০২৪ সালের মধ্যে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলটি চালু হবে। এর ফলে দেশে ডিজিটাল সংযুক্তি বিকাশে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। 

মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে ডিজিটাল সংযুক্তির বর্ধিত চাহিদা পূরণের মাধ্যমে ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে সি-মি-উই-৬ নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনে অভাবনীয় অবদান রাখবে।

এর আগে বিনা মাশুলে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলো তৎকালীন সরকার। মোস্তফা জব্বার জানান, এর ফলে বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তি দুনিয়া থেকে ১৪ বছর পিছিয়ে যায়। 

২০০৮ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির মধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশ কাটিয়ে ওঠে এবং একই সাথে দুর্গম চরাঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।  

যেখানে দেশে ২০০৮ সালে মাত্র আট জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহৃত হতো, সেখানে এখন ব্যবহার হচ্ছে ২৭০০ জিবিপিএস। ২০০৮ এ যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিলো মাত্র সাত লাখ, বর্তমানে সেই সংখ্যাটি ১১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। 

কনসোর্টিয়ামের সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহ স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিজ নিজ দেশ থেকে অনুরূপ চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিপত্রটি কনসোর্টিয়ামের অস্থায়ী সদর দপ্তর সিংগাপুরে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানো হবে।

২০০৬ সালের প্রথমার্ধে দেশে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল কমিশনিং করা হয়। ২০২৪ সাল নাগাদ দেশে ৬০০০ জিবিপিএস-এরও বেশি আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হবে।

ইতোমধ্যে ভারতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বিএসএনএল এর কাছে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রফতানির জন্য নতুন করে চুক্তি সই হয়েছে। এছাড়া বিএসসিসিএল দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের পশ্চিম দিকের তথা ইউরোপের দিকের অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ দীর্ঘমেয়াদী লিজ দেওয়ার জন্য সৌদি আরব ও ফ্রান্সের সাথে দুটি চুক্তি সই করেছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি প্রক্রিয়াধীন আছে।

সি-মি-উই-৬ কনসোর্টিয়ামে যোগদানকারী ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- সিংটেল সিঙ্গাপুর, বিএসসিসিএল বাংলাদেশ, টেলিকম মালয়েশিয়া, এসএলটি শ্রীলংকা, ধিরাগু মালদ্বীপ, এনআইটুআই ভারত, টিডব্লিউএ পাকিস্তান, জিবতি টেলিকম, জিবতি, মবিলিঙ্ক-সৌদি আরব, চায়না মোবাইল ইন্টারন্যাশনাল, চায়না টেলিকম গ্লোবাল লিমিটেড চায়না, ইউনিকম চায়না, মাইক্রোসফট যুক্তরাষ্ট্র, টেলিকম ইজিপ্ট মিশর এবং অরেঞ্জ ফ্রান্স।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়