ঢাকা, সোমবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ||  আশ্বিন ৯ ১৪৩০

হঠাৎ বিএনপিকে আরও ধ্বংসাত্মক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কারা?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২১, ৩ জুন ২০২৩  

হঠাৎ বিএনপিকে আরও ধ্বংসাত্মক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কারা?

হঠাৎ বিএনপিকে আরও ধ্বংসাত্মক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কারা?

সরকার পতনের আন্দোলন জমাতে পারছে না বিএনপি। একটা সময় ছিলো বিএনপির আন্দোলন মানেই ছিলো জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর। ইদানিং সরকারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের আন্দোলনই জমাতে পারছে না বিএনপি। তাই জনমনেও নেই আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা। এ অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচন করতে সরকারকে বেগ পেতে হবে না। আর তাই বিএনপিকে দ্রুত আন্দোলনের গতি বাড়ানোসহ ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি বেগবান করার পরামর্শ দিয়েছে সুশীলরা।

পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে রাষ্ট্র মেরামত কাঠামো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া এবং জাতীয় সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করার জন্য চাপ দিচ্ছে সুশীলরা। তা না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের সহানুভূতি প্রত্যাহার হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সুশীলরা।

সাম্প্রতিক সময়ে সুশীলদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছে। বৈঠকগুলোতে কিভাবে সরকারকে হটিয়ে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যায় সে বিষয়ে সুশীলরা পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দকে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান সহ ৫জন বিএনপির নেতার সঙ্গে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, বুদ্ধি পরামর্শ দিচ্ছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ একেবারে পুরোপুরি বিএনপি। অন্যদিকে কেউ কেউ আছেন যারা বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, তবে আওয়ামী লীগ বিরোধী হিসেবে তারা পরিচিত। এরা যেকোনো মূল্যে দেশে একটি অনির্বাচিত সরকারকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এরা সবাই এখন বিএনপিকে মদদ দিচ্ছে এবং বিএনপিকে আন্দোলন তীব্র করার ঘোষণা দিচ্ছে।

আর সে কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে যে আন্দোলনগুলো চলমান রয়েছে তার ওপর কড়া নজর রাখছেন সুশীলরা। তারা মনে করছেন এখন যদি তীব্র আন্দোলন না করা যায় তাহলে পরে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করা সম্ভব হবে না।

গত বছরের শেষে ডিসেম্বরকে টার্গেট করে অন্দোলন করার পরামর্শ দিয়েছিলো সুশীলরা। সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় বিএনপি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সুশীলদের সাথে বিএনপির বৈঠকও হয়েছিল। বিএনপি তাদেরকে আশ্বস্ত করেছিল যে ডিসেম্বরের মধ্যেই আন্দোলনের একটা চূড়ান্ত রূপ তারা দেখতে পাবে।

ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সুশীলদের পরামর্শে ঢাকা অচল করে দেয়ার যে পরিকল্পনা করেছিলো বিএনপি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃঢ়তায় তাও ভেস্তে যায়। কিন্তু সুশীলরা যেরকম ভাবে আন্দোলনটি চাচ্ছেন জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হোক দেশে। কিন্তু সেই অবস্থাটি তৈরি হচ্ছে না। যার ফলে সুশীলরা এখন বিএনপির ওপরই বিরক্ত হয়েছে।

একটি অনির্বাচিত সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনতে হলে রাজপথে বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে হবে, একটি উত্তেজনা তৈরি করতে হবে। রাজপথে উত্তেজনা এবং ঘটনা না ঘটিয়ে কোনো অবস্থাতেই বড় ধরনের আন্দোলন করা সম্ভব নয়। আর তাই দেশের সুশীল সমাজরা এখন বিএনপিকে বেশি করে তাগাদা দিচ্ছে।

এদিকে বিএনপির মধ্যে আন্দোলন এবং নির্বাচনের ব্যাপারে দ্বিধা দ্বন্দ্ব রয়েছে। আন্দোলনের ফসল কার ঘরে উঠবে? আরেকটি এক-এগারো আসলে লাভ না ক্ষতি হবে ইত্যাদি জটিল অঙ্কের হিসেব-নিকেশে ব্যস্ত এখন বিএনপি। তাই শেষ পর্যন্ত সুশীলদের প্রস্তাব অনুযায়ী ধ্বংসাত্মক, জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতিতে বিএনপি আবার ফিরে যাবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়