ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৫ ১৪২৯

ডলার বেচাকেনা ব্যাংকের যেকোনো শাখায়

বাণিজ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ১৩ আগস্ট ২০২২  

ডলার বেচাকেনা ব্যাংকের যেকোনো শাখায়

ডলার বেচাকেনা ব্যাংকের যেকোনো শাখায়

মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরতা কমাতে সারাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় নগদ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে বৈদেশিক লেনদেনে নিয়োজিত অথরাইজড ডিলার ব্যাংকগুলোর (এডি) শাখা থেকেই কেবল নগদ ডলার কেনাবেচনার অনুমতি রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এটা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। আগামী রোববার বিস্তারিত জানানো হবে।

ডলার সংকট কাটাতে এ সেবার পরিধি বাড়াতে চাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই কোন এলাকার কোন শাখায় এ ধরনের সেবা চালু করা যায় তার একটি তালিকা ব্যাংকগুলোর কাছে চাওয়া হবে। তালিকা পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিবেচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আশা করছি খুব শিগগিরই সারাদেশে ব্যাংকের শাখায় এ সেবা চালু করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, ডলার বেচাকেনার জন্য শুধুমাত্র এডি শাখাগুলোর অনুমতি রয়েছে। কিন্তু সারাদেশে এ ধরনের শাখার সংখ্যা খুব একটা নেই। রাজধানী ঢাকাসহ জেলা ও বিভাগীয় শহরেই বেশির ভাগ শাখা। ফলে নগদ ডলার কেনাবেচার জন্য মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয় প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি পর্যটকসহ সাধারণ গ্রাহকদের।

এছাড়া ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে এনডোর্সমেন্ট বাধ্যতামূলক হলেও খোলা বাজারে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে মানি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো নগদ ডলারের বাজারে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। ডলারের বাজারে চলমান অস্থিরতার পেছনেও মানি চেঞ্জাররা দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে মানি চেঞ্জারদের ওপর নগদ ডলার বেচাকেনার নির্ভরতা কমাতে ব্যাংকের এডি শাখার বাইরে অন্যান্য শাখায়ও নগদ ডলারসহ অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার সেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে শাখাগুলোতে একটি ডেস্কের মাধ্যমেই এ সেবা চালুর অনুমোদন দেওয়া হবে।

তীব্র সংকটে দেশে মার্কিন ডলারের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে কমছে টাকার মান। খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে নগদ এক ডলার কিন‌তে গ্রাহক‌কে গুণ‌তে হ‌চ্ছে ১১৮ থে‌কে ১২০ টাকা।

ডলার বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল এ পর্যন্ত একশর বেশি মানি চেঞ্জার পরিদর্শন করেছে । এর মধ্যে ৪২ টি প্রতিষ্ঠানকে ডলার কেনাবেচায় বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শোকজ করা হয়। আর ৫ টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করেছে।

লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ডলারের দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়