ঢাকা, বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ২ ১৪২৯

বাবার স্বপ্ন পূরণেই এগিয়ে চলেছেন সরফরাজ খান

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫৬, ২৬ জুন ২০২২  

সংগৃহীত

সংগৃহীত

আইপিএলের সুবাদে সরফরাজ খান নামটা ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে খেলার পর চলতি মৌসুমে তিনি মাঠ মাতিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে। বাবার স্বপ্ন পূরণেই এগিয়ে চলেছেন এই ব্যাটার।

ছোটবেলা থেকেই খুব জেদি সরফরাজ। তার বাবারও জেদ, ছেলেকে ক্রিকেটার বানাবেন। বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, দুজনেরই বেশ কিছু স্বপ্ন হয়েছে সত্যি।

ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে চলমান রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে সরফরাজ খান যখন সেঞ্চুরি করছেন, তার বাবা নওশাদ খানও তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছেলে মাঠে সেঞ্চুরি করে কাঁদছেন, আর স্টেডিয়ামে গর্বে চওড়া হচ্ছে বাবার বুক। কারন তার স্বপ্ন যে সত্যি করছে ছেলে!

নওশাদ নিজে স্বপ্ন দেখেছিলেন মুম্বাইয়ের হয়ে খেলার। রঞ্জি দলে ঢোকার খুব কাছে এসেও অধরা থেকে গিয়েছিল সেই স্বপ্ন। একের পর এক ম্যাচে সেঞ্চুরি করে তার ছেলে সেই স্বপ্ন সত্যি করেছে। রঞ্জি ফাইনালেও করেছে সেঞ্চুরি।

মুম্বাইয়ের ‘মাচো’র (মুম্বাইয়ে এই নামেই পরিচিত নওশাদ) ছেলে এখন গোটা এলাকার মানুষের গর্ব। নওশাদের বাড়ি মুম্বাইয়ের কুরলায়। তিনি যেখানে বড় হয়েছেন, বছর দশেক হল সেখান থেকে কুরলার অন্য জায়গায় একটি ফ্ল্যাটে চলে এসেছেন তারা।

ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দাদের অনুমতি নিয়ে সেখানেই পিচ বানিয়েছেন নওশাদ। সরফরাজকে সেই পিচে অনুশীলন করান তিনি। তিন বছর বয়স থেকে সরফরাজের ক্রিকেট শেখা শুরু তার হাত ধরেই।

মাঠে বসে ছেলের খেলা দেখার সময় মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন নওশাদ। কোনও রকম ব্যাঘাত পছন্দ করেন না তিনি। নওশাদ বলেন, ব্যাঙ্গালুরুতে আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব সকলে একসঙ্গে বসে খেলা দেখছি। চেষ্টা করি ছেলের সব ম্যাচ মাঠে বসে দেখার।

ছোটবেলা থেকে নওশাদই সব জায়গায় ছেলেকে খেলতে নিয়ে যেতেন। ছোট্ট সরফরাজ তার বাবাকে দেখতেন সাদা জামা, ট্রাউজার পরে ক্রিকেটের সরঞ্জাম নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে। সেখান থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। বাবার প্রশিক্ষণেই শুরু হয় ক্রিকেট শেখা।

মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে শুরু বাবা ছেলের ক্রিকেট পর্ব। নওশাদের জেদ ছিল ছেলেকে ক্রিকেটার বানাবেন, ছেলেরও জেদ ছিল তিনি ক্রিকেটার হবেন। অন্য কোনো দিকে মন ছিল না সরফরাজের। বাবাও খুব একটা পছন্দ করতেন না ছেলের অন্য দিকে মন যাক।

বন্ধুদের জন্মদিনে গেলে বেশি রাত হবে ফিরতে। তাতে সকালে অনুশীলনে যেতে দেরি হবে। এই কারণে নওশাদ পছন্দ করতেন না ছেলে রাতে বন্ধুদের বাড়ি যাক। ক্রিকেট ছাড়া অন্য কিছুর দিকে ছেলের মন যাক, পছন্দ নয় নওশাদের। সরফরাজ জানিয়েছেন, অন্য দিকে মন গেলে বাবার হাতে চড়ও খেতে হয়েছে তাকে।

সরফরাজ এবং তার বাবার কাছে ক্রিকেটই সব। বাড়িতেও তাদের মধ্যে ক্রিকেট নিয়েই আলোচনা হয় সব থেকে বেশি। অন্য বিষয় নিয়ে কথা হলেও ক্রিকেটই তাঁদের ধ্যানজ্ঞান বলে জানালেন নওশাদ।

এই দুজনের জুটি মনে করিয়ে দেয় যুবরাজ সিং এবং তার বাবা যোগরাজের কথা। যুবরাজকে ক্রিকেটার তৈরি করার জেদ ছিল যোগরাজের। ভারতের হয়ে দু’টি বিশ্বকাপ জিতে যুবরাজ তার বাবার স্বপ্নপূরণ করেছিলেন। 

সরফরাজ অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলের হয়ে দু’বার বিশ্বকাপ খেললেও এখনো সিনিয়র দলে খেলা বাকি। নওশাদের আশা এক দিন তার ছেলে সেই দলেও খেলবেন।

সরফরাজের সব ঠিক থাকলেও ওজন নিয়ে প্রায়ই তার বাবাকে কথা শুনতে হয়। কিন্তু তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা নেই নওশাদের। তিনি বলেন, আট বছর আইপিএল খেলে ফেলেছে সরফরাজ। বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ক্রিস গেইলের মতো ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলেছে।

তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে আরসিবি, পাঞ্জাবের মতো দলে খেলেছে। এই বছর দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছে। এসব দল ফিটনেস পরীক্ষা নেয়। ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সময়ও ফিটনেস পরীক্ষা দিয়েছে। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ফিটনেস পরীক্ষা দিয়েছে। মুম্বাই রঞ্জি দলও ফিটনেস পরীক্ষা নিয়েছে।

নওশাদ যোগ করেন, সেসব ফিটনেস পরীক্ষায় পাশ করেছে বলেই খেলার সুযোগ পাচ্ছে। চার দিনের ম্যাচে তিনশো রান করেছে। টানা দু’দিন ব্যাট করেছে। রঞ্জি ফাইনালেও সেঞ্চুরি করার পর ফিল্ডিং করছে। মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যায়নি ও। তা হলে ওর ওজন নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হবে?

ওজনকে হার মানিয়ে এগিয়ে চলেছেন সরফরাজ। বাবার একের পর এক স্বপ্নপূরণ করছেন তিনি। এবার লক্ষ্য ভারতীয় দলে খেলা। বাবার সেই স্বপ্নের দিকেই এগোচ্ছেন সরফরাজ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়