ঢাকা, বুধবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৯

ইসলামে কাউকে উপহাস ঠাট্টা-ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করার পরিণাম

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৩, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  

ইসলামে কাউকে উপহাস ঠাট্টা-ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করার পরিণাম

ইসলামে কাউকে উপহাস ঠাট্টা-ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করার পরিণাম

ঠাট্টা বিদ্রুপ এর অর্থ হচ্ছে কাউকে অবজ্ঞা বা ছোট মনে করে তার দোষ প্রকাশ করা যা শুনে সবাই হাসে। তার অনেক প্রকার রয়েছে; যেমন অন্যের হাঁটাচলা, ওঠা-বসা, কথা বলা এবং হাসি, কান্না অথবা শরীরের স্বাস্থ্য এবং গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে হাসি ঠাট্টা করা যা সেই ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়।

ঠাট্টা বিদ্রুপ করা এমন একটি অহেতুক গুনাহের কাজ যাতে মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতে কোন ফায়দা নেই; শুধুমাত্র অমনোযোগিতা ও অসাবধানতার কারণে মানুষ এই গুনাহে লিপ্ত হয়ে থাকে অথচ এত বড় গুনাহ তার অজান্তেই হয়ে যাচ্ছে যা এই দুনিয়াতে বুঝতে না পারলেও কেয়ামতের দিন একটি কবিরা গুনাই জাহান্নামে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

কেয়ামতের দিন বান্দা আফসোস করে বলবে হায়! এটি কেমন আমলনামা যার মধ্যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ পড়েনি বরং আমাদের ভাল-মন্দ সমস্ত কর্মই এখানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তখন বান্দা আফসোস করবে বিশেষ করে এই সমস্ত অহেতুক গুনাহের জন্য। 

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তারা বলবে: হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না। সুরা কা’হফ - ১৮:৪৯

একবার হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা এক ব্যক্তির অনুকরণ করাতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তা করতে নিষেধ করেন এবং বলেন ঠাট্টার বদলায় কেউ আমাকে অনেক ধন সম্পদ দিলেও আমি কখনো তা করবো না অর্থাৎ এটি একটি মূল্যহীন এবং অনর্থক কাজ যাতে কোন লাভ নেই তবে তার ক্ষতি অনেক বড়।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম। সুরা হুজুরাত - ৪৯:১১

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে উঠে চিৎকার দিয়ে বললেন: হে ঐ জামাআত, যারা মুখে ইসলাম কবুল করেছ কিন্তু অন্তরে এখনো ঈমান মাজবুত হযনি! তোমরা মুসলমানদের কষ্ট দিবে না, তাদের লজ্জা দিবেনা এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হবে না। কেননা, যে লোক তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধানে নিয়োজিত হবে আল্লাহ্ তাআলা তার গোপন দোষ প্রকাশ করে দিবেন। আর যে ব্যক্তির দোষ আল্লাহ্‌ তাআলা প্রকাশ করে দিবেন তাকে অপমান করে ছাড়বেন, সে তার উটের হাওদার ভিতরে অবস্থান করে থাকলেও।

বর্ণনাকারী (নাফি) বলেন, একদিন ইবনু উমার (রা.) বাইতুল্লাহ বা কা’বার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি কতই না ব্যাপক ও বিরাট! তুমি কতইনা সম্মানি তা কিন্তু তোমার চেয়েও মু’মিনের সম্মান ও মর্যাদা আল্লাহ্‌ তা‘আলার নিকটে অনেক বেশি। জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০৩২ 

বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মানুষকে আবুল, মফিজ, রোহিঙ্গা – ইত্যাদি বলে ঘরে-বাইরে, বাসা-বাড়িতে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, ব্যঙ্গ, অশ্লীল রঙ্গ-তামাশা করার শেষ যেন নেই। এক মুসলমান অপর মুসলমানকে নিয়ে উপহাস করছে। অথচ এ ধরনের  উপহাস, ঠাট্টা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা ইসলামে সম্পূর্ণ নাজায়েয।

রসিকতা অবশ্যই ইসলাম সমর্থন করে। মহানবী (সা.) রসিকতা করেছেন। 

হাদিস শরীফে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সা. এর কাছে এক বৃদ্ধা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে জান্নাত দান করেন। তখন রাসুল সা. (রসিকতা করে) বললেন, হে অমুকের মা; জান্নাতে কোনো বৃদ্ধা প্রবেশ করবে না। পরে বৃদ্ধা মহিলাটি কাঁদতে কাঁদতে ফিরে যাচ্ছিল। তখন রাসুল সা. সাহাবাদের বললেন, তাকে গিয়ে বল, সে বৃদ্ধা হয়ে যাবে না; বরং সে তরুণী ও চিরকুমারী হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (শামায়েলে তিরমিজি : ২৪১) 

রসিকতা সত্য ও বাস্তবধর্মী হতে হবে। মিথ্যাচার বা কাউকে খাটো করার জন্য হবে না। স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে রসিকতা করতে পারে। বাবা সন্তানদের সঙ্গে। এতে সম্পর্কে বৈচিত্র্য ও দৃঢ়তা আসে। বন্ধন হয় শক্ত। অথচ সমাজে হচ্ছে উল্টোটা। ভরা মসলিস। একজনকে নিয়ে কেউ ব্যঙ্গ করল। এমন কথা তার নামে বলা হলো যা সম্পূর্ণই মিথ্যা। সবাই হো হো করে হেসে লুটিয়ে পড়ল। লজ্জা আর অপমানে ওই ব্যক্তি তখন মুখ লুকায়। চোখে পানি এসে যায়। যারা এমন কাজ করে তাদের ধ্বংস অনিবার্য। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ধ্বংস ওই ব্যক্তির জন্য যে মানুষকে হাসানোর জন্য কথা বলে ও মিথ্যা বলে, তার ধ্বংস অনিবার্য, তার ধ্বংস অনিবার্য। (তিরমিজি : ২২৩৭)। 

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে হারাম এবং একটি অনর্থক কাজ অর্থাৎ অপর মুসলমান ভাইকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা থেকে হেফাজত রাখুন। আমিন। 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়