ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৪ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৯ ১৪২৯

বিএনপি মাঠের রাজনীতিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ রাজনৈতিক দল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:০১, ১৮ অক্টোবর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ক’দিন আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বক্তব্য দিয়েছিলেন ‘দড়ি ধরে মারো টান/রাজা হবে খান খান’। তার এই মন্তব্যের পরে ঘটে কুমিল্লা, বায়তুল মোকাররমের ঘটনা। পরে তারই ধারাবাহিকতায় উত্তাপ বয়ে চলছে দেশব্যাপী। ঘটছে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসন্ত্রাসের মতো ঘটনা। এমতাবস্থায় লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ, ঢাকা যার, সারাদেশ তার। তাই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু করতে হবে রাজধানীকে। নেতাকর্মীরাও এ নিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার ভার্চুয়াল বৈঠক করে জেনে নিয়েছেন করণীয় সম্পর্কে। বলছেন, তারেকের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। কারণ, আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, মাঠের রাজনীতিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ রাজনৈতিক দল বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে ‘ঈদের পরে আন্দোলন’ বলে আসলেও তা কার্যকর করতে পারছিলো না নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতায়। পরে অনলাইন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, শারদীয় দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়ে শুরু হবে সরকার পতনের আন্দোলন। কারণ, এর চেয়ে বড় কোন অস্ত্র নেই এখন আর নেই বিএনপির কাছে। তাছাড়া আরেকটি বিষয়ও তারা পর্যবেক্ষণ করেছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বর্তমান সরকারের একটি বড় ভোট ব্যাংক। তাদেরকে কোনভাবে উসকে দিয়ে যদি বলা হয়, এই দেশ তাদের জন্য নিরাপদ না, তবেই তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল হবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ীই মির্জা ফখরুল এক অনুষ্ঠানে আভাস দিয়ে বলেছিলেন, ‘দড়ি ধরে মারো টান/রাজা হবে খান খান’। অর্থাৎ প্রতিমা ভাঙো, মন্দির ভাঙো, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাও। হয়েছোও তাই।

এমতাবস্থায় আবারো ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকে লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বৈঠকে তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, আপনাদের এখন জেগে ওঠার সময়। প্রস্তুতি নিন। কারণ, আমাদের প্ল্যান ওয়ার্ক করেছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে গেছে দেশে। এজেন্টরা ভালো কাজ করেছে, তাদেরকে পুরস্কৃত করুন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এবারের মিশন হবে রাজধানী। কারণ, ঢাকা যার, সারাদেশ তার। তাই এবার আমাদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হবে ঢাকা। যে যেভাবে পারেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করুন রাজধানীকে ঘিরে। যত টাকা লাগে খরচ করুন। মনে রাখবেন, এবারই কিন্তু আমাদের শেষ সুযোগ। তাই দিতে হবে মরণ কামড়। তার আগে কমিটিগুলো ঢেলে সাজান। সাহসী নেতাকর্মীদের ঠাঁই দিন।

পিছু হটার কোন সুযোগ নেই উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ইশরাক হোসেন বলেন, এখনই পিক টাইম আন্দোলনের। সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে হলেও আমি রাজপথে থাকবো নেতাকর্মীদের নিয়ে। তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর আমি তাদের সঙ্গে বসেছিলাম। তারা আর্থিক-মানসিক উভয় দিক থেকেই প্রস্তুত রয়েছে। কেউই এবার পিছু হটবে না। পিছু হটার কোন সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি আজ্ঞাবহ ব্যক্তি। তারেক রহমান যা বলবেন, আমি তা করব। তার কথা মতোই আমি সবাইকে তাগিদ দিয়েছি রাজধানীকেন্দ্রিক আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে। আশারাখি, শিগগিরই আমরা রাজধানীকে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করতে পারবো। সে সক্ষমতা নিয়েই এবার আমরা নেমেছি।

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবার চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। কারণ, সাম্প্রদায়িক দল বিএনপি পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে যে মহাপরিকল্পনা করেছে, তা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভেস্তে দিতে হবে। আপনার-আমার কারো সামনে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কিংবা দেশের ক্ষতি হয় এমন কোন ফেসবুক পোস্ট কিংবা আন্দোলন-ষড়যন্ত্রের তথ্য থাকলে তা অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা ৯৯৯ এ ফোন করে অবহিত করুন। তাহলে সহিংসতা থেকে দূরে থাকবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ। ভালো থাকবে আমার-আপনার পরিবার।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়