ঢাকা, রোববার   ২৬ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১৩ ১৪২৯

বহুদফা সংকটের মধ্যে পড়েছে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৮, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সরকারের বিরুদ্ধে একদফা আন্দোলন করার ঘোষণা দিয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। কিন্তু একদফা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নিজেই যেন বহুদফা সংকটের মধ্যে পড়েছে। বিএনপির সংকট এখন বেড়েই চলেছে।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপি আশা করেছিল যে নতুন যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে তাতে বিতর্কিত ব্যক্তিরাই থাকবে। এর ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বিএনপি রাজপথ গরম করতে পারবে। কিন্তু নতুন যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে তা অধিকাংশ মানুষের কাছেই ইতিবাচক এবং গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সরকার যাকে নিয়োগ দিয়েছে তার অতীত ইতিহাস অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। ফলে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপি যে আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছিল, সেই পরিকল্পনা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিএনপি আজ থেকে আন্দোলন শুরু করেছে কিন্তু সেই আন্দোলনও জনগণের কোনো আগ্রহ পায়নি। বরং আগে যেমন এসব আন্দোলনে বিএনপির কর্মীরা উৎসাহ-উদ্দীপনা পেতো, এখন সেই উৎসাহ-উদ্দীপনাও হারিয়ে ফেলেছে। বরং বিএনপির কর্মীরা মনে করছে যে, এই ধরনের আধা আন্দোলন, আধা সমঝোতা আরও ভয়াবহ। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন বাড়ে, অন্যদিকে সরকারেরও কোনো সমস্যা তৈরি হয় না। এরকম আন্দোলনের ব্যাপারে বিএনপিতে এখন কোনো আগ্রহ নেই। খালেদা জিয়ার ইস্যু নিয়ে বিএনপি আন্দোলন করতে চেয়েছিল।

কিন্তু সেই আন্দোলনের আগে খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ফলে আন্দোলনের মাধ্যমে কর্মীদের চাঙ্গা করার যে উদ্যোগ বিএনপি গ্রহণ করেছিল তা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরাই এখন হতাশ এবং আন্দোলনের কোন ভবিষ্যৎ দেখছেনা। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরম আকার ধারণ করেছে। দলের ভেতর বহিষ্কারের যে নাটক চলছে তা দলের সাংগঠনিক অবস্থাকে আরো দুর্বল এবং ক্ষতবিক্ষত করেছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, এভাবে সংগঠন চলতে থাকলে এই সংগঠন দিয়ে আর যাই হোক সরকারবিরোধী আন্দোলন করা যাবে না। বিএনপি মনে করেছিল যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলন করবে। কিন্তু অবস্থা এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কেউই সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে আগ্রহী নয়। বরং বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতাসহ নানা বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক করতে অস্বস্তিবোধ করে।

অন্যদিকে, জামায়াতকে উপেক্ষার ফলে জামায়াতের সঙ্গেও বিএনপির এখন টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত এখন মনে করে যে, বিএনপিকে বিপদের দিনে পাশে পাওয়া যায় না। ফলে রাজনীতির মাঠে বিএনপি নিঃস্ব প্রায় হয়ে গেছে। বিএনপি মনে করেছিল যে, তাদের আন্দোলনে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন ও সহযোগিতা পাবে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশের ব্যাপারে, সে নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেকে মনে করেছিল যে এটিতে বিএনপির লাভ হবে।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাত কর্মকর্তার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলেনি। বরং বিএনপিকেই তারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মনে করছে। এইসব বাস্তবতার কারণেই বহুমাত্রিক সঙ্কটের মধ্যে বিএনপি এখন সময় কাটাচ্ছে। আর তাই নির্বাচনের দুই বছরেরও কম সময়ের আগে বিএনপি নির্বাচন থেকে দূরে থাকবে এবং আন্দোলন করবে, এটি জনগণের কাছে আর বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়