ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৭ ১৪২৮

খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে মৃত্যু পরিকল্পনায় তারেক!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:২৫, ৮ ডিসেম্বর ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। দলীয় পদ থেকে ভারমুক্ত হয়ে পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের। কিন্তু তা কি করে সম্ভব। মা বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনও জীবিত। দলের বৃহৎ অংশের নেতাকর্মীরাও তাকে চান। তাই প্রমাণিত দুর্নীতি মামলায় যখন খালেদা কারান্তরীণ হন, তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন তারেক রহমান। অঘোষিতভাবে পেয়েছিলেন দলের কর্তৃত্ব। তখন থেকেই খালেদাকে মাইনাস করার মিশনে তিনি। যার প্রতিফলন মেলে তার মুক্তিতে আন্দোলনে কঠোর অবস্থানে না যাওয়া, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দলীয় অনুষ্ঠানে ব্যানারে বিএনপি নেত্রীর ছবি ব্যবহার না করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। যা এখন গিয়ে ঠেকেছে তার মৃত্যু পরিকল্পনায়।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, জনসমর্থন শূন্য বিএনপির হাতে এই মুহূর্তে আন্দোলনের কোন ইস্যু নেই। তারেক রহমানও লন্ডনে তার দ্বিতীয় হাওয়া ভবনে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। ভাবছেন, এতো ঢাকঢোল পিটিয়ে বলার পরেও কেন খালেদার অসুস্থকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে উঠছে না! কেন মানুষ ফুঁসে উঠছে না! কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে, শারীরিক অবস্থা ও বয়স বিবেচনায় প্রমাণিত দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও খালেদাকে চিকিৎসার স্বার্থে জামিনে মুক্তি দেয় সরকার। শুধু তাই নয় তার কথামতো, তার পছন্দের জায়গাতেই বর্তমানে চলছে চিকিৎসা। সরকারের এই মানবিকতা যখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে, খালেদাও চিকিৎসা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন, তখনই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন তারেক রহমান।

প্রথমত তিনি চাইছেন বিএনপি নেত্রীর বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে নিজের ফায়দা লুটতে। বিভিন্ন দাতা থেকে খালেদার চিকিৎসা খরচ বাবদ মোটা অংকের টাকা নিয়ে তা নিজে আত্মসাৎ করতে, পূর্বে তার কারামুক্তির ন্যায়। যেহেতু এই পরিকল্পনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই তিনি নিয়ে রেখেছেন দ্বিতীয় পরিকল্পনাও। সেটি হচ্ছে, যেহেতু খালেদার বিদেশ যাত্রার বিষয়টি সরকারের নয়, উচ্চ আদালতের। তাই সেটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও কম। কারণ, সরকারপ্রধান মানবিক সহানুভূতি দেখিয়ে তাকে জামিনে মুক্ত করলেও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারেন না। তা পারেন একমাত্র উচ্চ আদালতই। আর এই বিষয়টিকে ক্যাশ করে ‘রাজনৈতিক ফায়দা’ ফায়দা নিতে চান তারেক।

তিনি চান খালেদার বিদেশে চিকিৎসা না হয়ে বরং স্বদেশেই হোক। এতে বিএনপি নেত্রীর ‘ভালো-মন্দ’ কিছু হলে সব দায় চাপানো হবে সরকারের ওপরে। আর মানুষও ব্যাপারটা সহজেই বিশ্বাস করবে। এই সুযোগে তিনি অনায়াসেই দলের কর্তৃত্ব পাবেন।

এ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তারেক রহমানের কূটকৈৗশলে খালেদা জিয়া আজ রাজনৈতিক সার্কাসের নায়িকাতে পরিণত হয়েছেন। তার যখন যেমন মনে হচ্ছে তখন তিনি বিএনপি নেত্রীকে নিয়ে চিত্রনাট্য লিখে সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করে নিজের ‘দলীয় প্রধান’ হওয়ার পথ সুগম করছেন। কিন্তু চাইলেই কি তা সম্ভব? পাপ কি কখনো বাপকে ছাড়ে?

সর্বশেষ
জনপ্রিয়