ঢাকা, রোববার   ২৬ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১৩ ১৪২৯

বাংলাদেশ নজির স্থাপন করেছে ডিজিটাল সক্ষমতায়

বাণিজ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৯, ১৭ মে ২০২২  

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার/

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার/

বিশ্বে বাংলাদেশ ডিজিটাল সক্ষমতায় নজির স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেন, করোনাকালে প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও মোবাইলে ক্লাস করেছে। ডিজিটাল সংযোগ করোনায় থমকে যাওয়া জীবনধারা সচল রেখেছে। দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত এমনকি দুর্গম দ্বীপ, চর ও হাওরাঞ্চলেও ফাইভ-জি কানেক্টিভিটি দেওয়ার সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি।

মঙ্গলবার (১৭ মে) বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

‘বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি এবং স্বাস্থ্যসম্মত বার্ধক্যের জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি’শীর্ষক প্রতিপাদ্যে এ বছর দিবসটি পালন করা হবে। জাতিসংঘের টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিখাত বিষয়ক বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র দিবসটি পালন করছে। বাংলাদেশও প্রতি বছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে আসছে।

প্রতিবছরের মতো এবছরেও দিবসটি উপলক্ষে বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হবে। এছাড়াও রোড-শো ও আলোচনা সভাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ডিজিটাল সংযোগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিপুল সম্ভাবনা এবং একে সমাজ ও অর্থনীতির কল্যাণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সবাইকে সচেতন করাই দিবসটি উদযাপনের মূল লক্ষ্য।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়ন ও ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের সদস্যপদ গ্রহণ, ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, টিঅ্যান্ডটি বোর্ড গঠন ও কারিগরি শিক্ষা প্রসারে গৃহীত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি বিকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন। এর ফলে শতশত বছরের পশ্চাৎপদতা অতিক্রম করে ১৯৬৯ সালে বিশ্বে শুরু হওয়া ইন্টারনেট ভিত্তিক শিল্প বিপ্লব বা তৃতীয় শিল্প বিপ্লবে অংশগ্রহণের যাত্রা শুরু হয়।

তিনি বলেন, এর আগে কৃষি ভিত্তিক এই ভূখণ্ডে লাঙ্গল-জোয়াল ছাড়া আর কোনো প্রযুক্তি ছিল না। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ একুশ বছর দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রে আবার থমকে যায় তৃতীয় শিল্প বিপ্লবে অংশ গ্রহণের অভিযাত্রা। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা যান্ত্রিক যুগের শিল্পায়নেও যুক্ত ছিলাম না উল্লেখ করে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের বঙ্গবন্ধু বপন করা বীজ অঙ্কুরিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে চারা গাছে পরিণত হয়। ২০০৮ সালে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতিক শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল থেকে ও গত সাড়ে তের বছরের বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বে ডিজিটাল সক্ষমতার নজির স্থাপন করেছে। ২০০৩ সালে জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব সম্মেলনে তৎকালীন সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা করেনি। এমনকি পরবর্তী ফলোআপ সম্মেলনে পর্যন্ত অংশ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তথ্য সমাজ প্রতিষ্ঠার সেই ধাপ অতিক্রম করে ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী ১৭ মে বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের এক অনন্য দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাঙালি জাতির জন্য এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা পঁচাত্তর পরবর্তী ছয়বছরের লড়াই, দুঃখ-কষ্ট, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশে পদার্পন করেছিলেন। তিনি ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির মতো দুঃসাহসিক ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কর্মসূচি না নিলে আজকের এই বাংলাদেশ আমরা পেতাম না বলেও উল্লেখ করেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

প্রথম আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাফ কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে ১৯৬৯ সালের ১৭ মে হতে প্রতি বছর বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস পালিত হয়ে আসছে। পরে তথ্য প্রযুক্তির বিকাশের ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সাল হতে ১৭ মে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়