ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৭ ১৪২৮

নেত্রকোনা হানাদার মুক্ত দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৫৫, ৯ ডিসেম্বর ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ডিসেম্বরের ৮ তারিখ, রাত থেকেই মিত্রবাহিনীর ক্যাপটেন চৌহানের নির্দেশনায় মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক আহমেদ ও আশরাফ আলী খান খসরুর নেতৃত্বে পাকবাহিনীকে টার্গেট করে শহরের কৃষিফার্ম এলাকায় অ্যাম্বুসের পরিকল্পনা করেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের অবস্থান টের পেয়ে ৯ ডিসেম্বর সকালে ময়মনসিংহের পথ ধরে পালাতে শুরু করে পাকবাহিনী। ঠিক এমন সময় গর্জে ওঠে মুক্তিসেনাদের রাইফেল। পাকসেনারাও পাল্টা গুলি চালায়। শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ।

আবু খাঁ, আব্দুস সাত্তার ও আব্দুর রশিদ নামে তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন সে যুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ প্রতিরোধের মুখে পাক সেনারা এক পর্যায়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে ময়মনসিংহের দিকে পালিয়ে যায়। আর এভাবেই শত্রুমুক্ত হয় নেত্রকোনা।

৯ ডিসেম্বর, ঐতিহাসিক নেত্রকোনা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন সকালে শত্রুমুক্ত হয় নেত্রকোনা জেলা। হাজারও মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী মানুষের ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় নেত্রকোনা মহকুমা শহর, ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।

দিবসটি পালন উপলক্ষে আজ ৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে থাকবে শহীদ স্মূতিফলকে পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মুক্তিযুদ্ধকালীন নয় মাসই নেত্রকোনা শহর ছিল পাক বাহিনীর ঘাঁটি। দালাল-রাজাকারদের সহযোগিতায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিল পাক হানাদাররা।

এছাড়া ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই সন্মুখ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুরে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেদিন শহীদ হন নেত্রকোনার ডা. আবদুল আজিজ, ফজলুল হক, জামালপুরের জামাল উদ্দিন, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার নুরুজ্জামান, দীজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস, ইয়ার মাহমুদ ও ভবতোষ চন্দ্র দাস। এসব মহান বীর শহীদদের কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী লেঙ্গুরা এলাকার ১১৭২ নাম্বার ভারতীয় সীমান্ত পিলারের কাছে সমাধি দেওয়া হয়। এই তারিখেও দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এ জেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষসহ মুক্তিযোদ্ধারা।

এদিকে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধে নেত্রকোনা জেলায় মুক্তিযোদ্ধাসহ শত শত নিরস্ত্র মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হন। সম্ভ্রম হারান অনেক মা-বোন। তাছাড়া পাকিস্তানি সেনারা জ্বালিয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম। নেত্রকোনা শহরের টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পাকিস্তানি বাহিনী তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতো। তাদের অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের সাক্ষী হয়ে আজও আছে এই কলেজটি দাঁড়িয়ে আছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়