ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১১ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৯

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আলুর বাম্পার ফলন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৯, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিএডিসির উদ্যোগে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এলাকায় আবাদ হচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি উদ্ভাবিত আলুর পাশাপাশি জার্মানী আর নেদারল্যান্ডসের আলুর বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাত। ফলনও হয়েছে বাম্পার। এসব আলু যাচ্ছে দেশের চিপস কোম্পানিতে। চাহিদা রয়েছে বিদেশেও। ফলন দেখে এলাকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামীতে আলুকে অন্যতম রপ্তানিপণ্য করার টার্গেট নিয়ে পাকুন্দিয়ায় বিদেশী জাতগুলোর পরীক্ষামূলক আবাদ করে সাফল্য পাওয়া গেছে।
পাকুন্দিয়ার সৈয়দগাঁও দাওরাইট এলাকায় বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল আলুর প্রদর্শনী প্লটের পাশেই বিএডিসি আয়োজন করেছিল মাল্টিলোকেশন ট্রায়াল প্লটের মাঠ দিবস। বিভিন্ন প্লটের আলুর নমুনা আহরণ করে দেখানো হয়েছে আশাব্যঞ্জক ফলনের চিত্র। বিভিন্ন প্লটে আবাদ করা হয়েছে বারি আলুর বিভিন্ন জাতের পাশাপাশি জার্মানির কুইন এ্যানি, সানসাইন, নেদারল্যান্ডসের এল্যুইটি, এস্টেরিক্স, সানতানা, রাশিদা, ল্যাবেলা, এভারেস্টসহ বিভিন্ন জাত। এসব আলু হেক্টরে ৪৫ থেকে ৫০ টন ফলন হয়। ল্যাবেলা এবং বারি আলু-৪১ দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এবং লাল বর্ণের হয়ে থাকে। বিএডিসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানিদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন প্লটের আলু উত্তোলন করে ওজন পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে মেপে আশানুরূপ ফলনের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এসব আলু থেকে বীজ সংরক্ষণ করে আগামী মৌসুমে আরও ব্যাপক সংখ্যক কৃষককে দিয়ে আবাদ করানো হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এরপর বিএডিসির উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে মাঠ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি কৃষি গবেষণা উপকেন্দ্রের উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, বিএডিসির উপ-পরিচালক মো. হারুন অর রশীদ, বিএডিসির বীজ বিপনন কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল আমিন, আলু রপ্তানিকারক ফরহাদ হাসান, বীজ ডিলার মাইনুল হক সেলিম, এরফান মাস্টার, আলু চাষী শফিকুল ইসলাম সোহেল, ইদ্রিছ আলী প্রমুখ এসব আলুর ফলন ও মান নিয়ে প্রশংসা করেন। বক্তাগণ বলেন, বারি আলুর ১০০টি জাত উদ্ভাবন করেছে। কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৫০টি জাতের আবাদ করে ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে। দেশে বছরে আলু উৎপন্ন হয় ১ কোটি ২০ লাখ মেট্রিকটন। আর দেশে চাহিদা রয়েছে ৬০ লাখ টনের মত। অর্ধেকই উদ্বৃত্ত থাকে। ফলে বাজারে আলুর দাম অনেক কমে যায়। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেই কারণেই এখন বিদেশে রপ্তানির কথা ভাবা হচ্ছে। আর রপ্তানির সম্ভাবনা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েই বিদেশি জাতও আবাদ করা হচ্ছে। রপ্তানির পরিমাণ বাড়লে কৃষকরাও ভাল দাম পাবেন। বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় উন্নতমানের আলু রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। গতবছর দেড় হাজার টন রপ্তানি হয়েছে। এবার রপ্তানির টার্গেট ২০ হাজার টন। এছাড়া পাকুন্দিয়া থেকে গতবছর প্রাণ কোম্পানিতে চিপসের জন্য বারি-৪১ আলু সরবরাহ করা হয়েছে ৩০টন। আগামীতে এই সম্ভাবনা আরও বহুগণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবদ ব্যক্ত করেছেন উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ। খাদ্যাভ্যাসে আলুর গুরুত্ব ও পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার জন্য বক্তাগণ সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়