ঢাকা, শনিবার   ১৫ জুন ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩১

হোভারক্রাফট তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পটুয়াখালীর শাওন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১০, ২৩ নভেম্বর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই মাত্র ৯ বছর বয়সে বাতাসের মাধ্যমে পাখা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে ক্ষুদে বিজ্ঞানী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সারা ফেলে দেন শাওন। এর পর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আবিষ্কার করেন একটার পর একটা আধুনিক প্রযুক্তি। 

শাওনের উদ্ভাবনের তালিকায় রয়েছে দেশব্যাপী আলোচিত জ্বালানি তেল ও চালকবিহীন সৌর চালিত গাড়ি, সি-প্লেন, সিকিউরিটি এলার্ম, স্মার্ট সুইজ, মোবাইল সুইজ, স্মার্ট ফ্রিজ, ড্রোন বিমানসহ আরো অনেক যন্ত্র। 

উপজেলার মহিপুর সদর ইউপির মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের মাদরাসা শিক্ষক নাসির উদ্দিনের ছেলে মাহাবুবুর রহমান শাওন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ প্লানেটর কলেজের রোবোটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।  

এবার ২৫ বছর বয়সেই সি-প্লেনের আদলে হোভারক্রাফট তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গোটা এলাকায়। এটি জ্বালানী তেলবিহীন সৌর বিদ্যুতের সহায়তায় ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার গতিতে চলবে নদী পথে। 

বাবার আর্থিক সহায়তায় দীর্ঘ নয় মাস অক্লান্ত পরিশ্রমের পর এ হোভারক্রাফটি তৈরি করেছেন ক্ষুদে এই বিজ্ঞানী। সম্পূর্ণ ফাইভার ও এ্যালোমিনিয়াম দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এর অবকাঠামো। এতে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ধারণ ক্ষমতা মাপার যন্ত্র। মূলত চার আসন বিশিষ্ট্য এই হোভারক্রাফটে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলেই বন্ধ হয়ে যাবে মেশিন। ধারণ ক্ষমতা স্বাভাবিক হলেই আবার চলতে শুরু করবে তার এই নতুন আবিষ্কার। 

শাওন বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হঠাৎ করেই ২০১৯ সালে মাথায় আসে আমিও একটি হোভারক্রাফট তৈরি করে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য উন্মুক্ত করবো। 

তিনি বলেন, উন্নত দেশের সি-বিচ পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য হোভারক্রাফট রয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই মূলত আমি এটি আবিষ্কার করি। এরই মধ্যে এই হোভারক্রাফট তৈরিতে তার ব্যয় হয়েছে ৪ লাখ টাকারও বেশি। তবে এর কাজ শত ভাগ সম্পূর্ণ করতে হাই ভোল্টেজ লিথিআম আয়ন ব্যাটারি জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। যা অর্থাভাবে এখনও সংগ্রহ করতে পারিনি।

তবে সরকারি সহায়তা পেলে বাণিজ্যিকভাবে হোভারক্রাফট বাজারজাত করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারবেন বলে শাওনের দাবি । 

মহিপুরের বাসিন্দা নিজা উদ্দিন জানান, ‘শাওন আমাদের এলাকার গর্ব। ওর নতুন আবিষ্কার হোভারক্রাফটি আমাদের চালিয়ে দেখিয়েছে। দেখতেও অনেক সুন্দর। শাওনকে ভালো করে গাইড করলে সে আরো ভালো কিছু করবে।’

শাওনের বাবা নাসির উদ্দিন বলেন, ছোট থেকেই শাওনের খেলার সামগ্রী ছিলো ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে সে বাতাসের সাহয্যে বিদ্যুৎ তৈরি করেছে। এবং সেই বিদ্যুৎ দিয়ে আমরা মোবাইল চার্জ দিয়েছি। এছাড়া জ্বালানী ও চালকবিহীন গাড়ি এবং এবার সে হোভারক্রাফট তৈরি করেছে। আমি আসলে এসব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে শাওনকে উৎসাহ দিয়েছি। 

তিনি আরো বলেন, আমার জমিজমা বিক্রি করে তাকে সাহায্য করেছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। ফলে সরকারের সহায়তার দাবি জানান তিনি।  

কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ইউসুফ আলী জানান, শাওনের অবিষ্কারগুলো আসলেই প্রশংসনীয়। তাকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিলে সে আরো ভালো কিছু করতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, শাওন এর আগেও বেশ কিছু প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। তার সকল উদ্ভাবন প্রশংসনীয়। তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়