ঢাকা, শনিবার   ১৫ জুন ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩১

সমুদ্র বাণিজ্যে দেশী জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৮, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

সমুদ্র বাণিজ্যে দেশী জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে

সমুদ্র বাণিজ্যে দেশী জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে

বাংলাদেশে সমুদ্রগামী জাহাজে বিনিয়োগ বাড়ছে। যার ফলে শক্তিশালী হচ্ছে অর্থনীতি। নিজেদের পণ্য আমদানির পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা বাড়াচ্ছেন সমুদ্রগামী জাহাজ। সমুদ্র বাণিজ্যে এখন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ৯৭টি। দেশের বড় বড় শিল্পগ্রুপগুলো এ খাতে বিনিয়োগ করায় বাড়ছে নির্ভরতা, কমছে  বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়। ফলে দূর হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকারের নানা সুযোগ সুবিধার কারণে শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের বহরে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। তবে বৈশি^ক মন্দার কারণে গত কয়েক বছর সারাবিশে^ই শিপিং লাইনগুলোর ব্যবসা কিছু মন্থর গতিতে হলেও থেমে নেই জাহাজে কন্টেনার পরিবহন।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বৈদেশিক বাণিজ্যে এই খাতটি শীঘ্রই শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসবে। নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২২ সালে দেশের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ ছিল ৯০টি। সর্বশেষ চলতি বছরের মে পর্যন্ত অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা ৯৭-এ পৌঁছেছে। এর আগে ২০২১ সালে জাহাজ ছিল ৭৩টি। বাংলাদেশে যেসব জাহাজ যুক্ত হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে,  জ্বালানি তেল পরিবহনকারী ট্যাংকার, এলপিজি পরিবহনকারী ট্যাংকার, কন্টেনার পরিবহনকারী জাহাজ অন্যতম। এসব জাহাজে বিশ্বের বিভিন্ন বন্দর থেকে পণ্যসামগ্রী বহন করে দেশে নিয়ে আসা হয়। একইভাবে দেশ থেকেও বিদেশের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য পরিবহন করা হয়। 
কোন্ গ্রুপের কত জাহাজ ॥ সবচেয়ে বেশি জাহাজ রয়েছে কেএসআরএম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের। তাদের বহরে রয়েছে ২৪টি সমুদ্রগামী জাহাজ। এরপরের অবস্থান মেঘনা গ্রুপের। তাদের রয়েছে ২২টি জাহাজ। তৃতীয় অবস্থান আকিজ গ্রুপের। তাদের আছে সমুদ্রগামী ১০টি জাহাজ। আর কর্ণফুলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এইচ আর লাইন্সের আটটি, বসুন্ধরার ছয়টি এবং বিএসএ গ্রুপ, দরিয়া শিপিং, সানসাইন নেভিগেশন, পিএইচ নেভিগেশন, পিএনএন শিপিং লাইন, ডরিন শিপিং লাইন্সসহ আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একাধিক জাহাজ রয়েছে। এর বাইরে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) রয়েছে মোট আট জাহাজ। 
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিএসসি গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে প্রথম জাহাজ কেনে বিএসসি। যেটির নাম দেওয়া হয় বাংলার দূত। এরপর অনেক জাহাজ কেনে রাষ্ট্রীয় এ সংস্থা। কিন্তু অজানা কারণে থমকে গিয়ে উল্টো জাহাজ কমতে থাকে। তবে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আবারও এ সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়াতে থাকে, যার ফলে বৃদ্ধি পেয়ে জাহাজের সংখ্যা এখন ৮টি। 
বিএসসির জাহাজগুলো হলো ॥ বাংলার জ্যোতি, বাংলার সৌরভ হল ট্যাংকার। এ দুই জাহাজ আগের হলেও নতুন যুক্ত হয়েছে এমভি বাংলার জয়যাত্রা, বাংলার সমৃদ্ধি, বাংলার অর্জন, বাংলার অগ্রগতি, বাংলার অগ্রযাত্রা, বাংলার অগ্রদূত। এরমধ্যে রয়েছে অয়েল ট্যাংকার, বাল্ক ক্যারিয়ার, ট্যাংকার। 
জাহাজ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্ব বাজারে যুদ্ধের কারণে ব্যবসা পরিস্থিতি টালমাটাল। এর মধ্যে থেমে নেই পণ্য পরিবহন। তবে ভাটা পড়েছে পরিবহন ব্যয়ে। করোনা পরবর্তী জোর কদমে পণ্য জাহাজীকরণ এবং বিশে^র শিপিং লাইনগুলোর রমরমা বাণিজ্য ছিল। তবে সে অবস্থা পাল্টেছে। এরপরও থেমে নেই এ খাতে বিনিয়োগ। এখনো এ খাতে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র থেমে যায়নি। দেশের শিল্প উদ্যোক্তারা সরকারি সুযোগ সুবিধা ও পররাষ্ট্র নীতির কারণে বিনিয়োগ করছে। 
নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতিবাচক সরকারি সুযোগ সুবিধার কারণেই এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দরগুলোর সক্ষমতা আগের চাইতে বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং শিল্পপতিরা এ খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণে মনোনিবেশ করাই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। যার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা  সাশ্রয় হচ্ছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়