ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩১

শুটকি উৎপাদনে প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫৪, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০  

কাঁচা মাছ শুকিয়ে শুটকি উৎপাদনের সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদনের লক্ষ্যে শুটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প কেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার। কক্সবাজারের বিভিন্ন শুটকি মহলে গড়ে ওঠা এই শিল্প নেয়া হচ্ছে একটি বিশেষ অঞ্চলে। এতে করে উৎপাদিত শুটকির মান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কমবে শুটকি মহলের জমির ব্যবহারও।

সম্প্রতি ১৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ‘শুটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প কেন্দ্র স্থাপন’-শীর্ষক প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। সরকারের এমন উদ্যোগে খুশি শুটকি মহাল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তবে সব মহালকে এক জায়গায় স্থান দিতে প্রকল্পের জমির পরিমাণ বাড়ানোর দাবি করেছেন তারা, পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিতের দাবি তাদের।

দেশের সবচেয়ে বড় শুটকি মহাল কক্সবাজারের নাজিরারটেকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাঁচা মাছ শুকিয়ে শুটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেখানকার শ্রমিকরা। এখানকার চারশো মহালে প্রতি মৌসুমে উৎপাদন হয় প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন শুটকি।

তবে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য নাজিরাটেকসহ আশপাশের এলাকার জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাই খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশেই  স্থাপন করা হচ্ছে শুটকি উৎপাদনের এই আধুনিক কেন্দ্র। তবে সেখানে জমি কম হওয়ায় সব মহাল স্থানান্তর করা যাবে কিনা- সংশয়ে আছেন ব্যবসায়ীরা।

নাজিরারটেকের শুটকি উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীদের ও মহল মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, যে আধুনিক পদ্ধতিতে শুটকি উৎপাদনে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে, সেটি বাস্তবায়ন হলে এখনকার ব্যবসায়ীদের জন্য ভাল হবে।

তারা বলছেন, শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে সরকারের যে কোনো উদ্যোগে তাদের আপত্তি নেই। তবে প্রকল্প এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, সড়ক যোগাযোগ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতি।

নাজিরারটেক মৎস্য ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি অর্থ সম্পাদক আতাউর রহমান কায়সার বলেন, শুটকি মহাল স্থানান্তরিত হলে সেখানে আমাদের চারটি মৌলিক দাবি থাকবে। প্রথমত সেখানকার আইন-শৃঙ্খলার দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। এরপর প্রকল্পে বিদ্যুৎ, যোগাযোগের জন্য উন্নত সড়ক ব্যবস্থা ও পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. এহছানুল হক জানান, ১৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ নতুন বছরের (২০২১ সালের জানুয়ারি) প্রথমেই শুরু হবে। আমাদের প্রকল্পটি মেয়াদ শুরু হচ্ছে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকেই। এখনও প্রকল্প এলাকার মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়নি। আশা করছি জানুয়ারি মাস থেকে প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শুরু করা যাবে। 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন বছর মেয়াদের এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। এটি বাস্তবায়িত হলে পরিবর্তন আসবে দীর্ঘ ৪০ বছরের শুটকি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়