ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪৩১

ভূমিহীন আসপিয়াকে চাকরি পেতে সহযোগিতা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:২৭, ১০ ডিসেম্বর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আসপিয়া ইসলাম কাজল যাতে তার যোগ্যতায় পুলিশ কনস্টবল পদে চাকরি পেতে পারে সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। 

ভূমিহীন আসপিয়া ইসলাম কাজলের বাবা ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা হলেও বাড়ি থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগে তারা বরিশালের হিজলা উপজেলায় এসে বসবাস শুরু করেন।

সূত্রমতে, ভূমিহীন হওয়ায় চাকরি পাচ্ছেন না আসপিয়া এ সংক্রান্ত একটি লেখা ও ছবি বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আসপিয়ার কাছে ফোন আসতে শুরু করে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে ফোন করা হয়। সেখানে পুলিশ কনস্টবল পদে নিয়োগ পরীক্ষার রোল নম্বর থেকে শুরু করে সবধরনের তথ্য তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন আসপিয়াকে।

এছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন দফতর থেকে আসপিয়াকে ফোন করে তারাও সব ঘটনা শুনে নিয়োগ পরীক্ষার সব তথ্য নিয়েছেন। ফলে আসপিয়া তার চাকরি হওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখছেন বলে শুক্রবার সকালে সংবাদকর্মীদের কাছে জানিয়েছেন।

কলেজছাত্রী আসপিয়া ইসলাম কাজলের জাতীয় পরিচয়পত্রে দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, তিনি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার বড় জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামের মাতুব্বর বাড়ির বাসিন্দা। তারা (আসপিয়া) সপরিবারে মাতুব্বর বাড়ির মেজবাহ উদ্দিন অপুর বাড়িতে থাকেন। 

বড় জালিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ঝন্টু বেপারী বলেন, আসপিয়াকে আমি ছোটবেলা থেকেই চিনি। ওর বাবা সৎ মানুষ ছিলেন। ২০১৯ সালের ৭ মে তার বাবা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আসপিয়াসহ তাদের পরিবারের চারজন সদস্য ওই এলাকার ভোটার। তার বাবাও ওই এলাকার ভোটার ছিলেন। আসপিয়ার বড় ভাই ঢাকায় গার্মেন্টসে এবং মেজ বোন একটি রেস্তোরাঁয় বাবুর্চির কাজ করেন। আর সেজ আসপিয়া ইসলাম কাজল হিজলা ডিগ্রি কলেজে বিএ-তে পড়াশোনা করছেন। ছোট বোন পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তারা তাদের মা ঝর্না বেগমের সঙ্গে হিজলায় বসবাস করছেন। 

তিনি আরো বলেন, শফিকুল ইসলাম জীবিত অবস্থায় আমার সঙ্গে আলাপ করে হিজলায় জমি ক্রয় করে ঘর তোলার জন্য সবকিছু ঠিক করেছিলেন। এমনকি জমিও পছন্দ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে সে মারা যাওয়ায় সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। 

আসপিয়া বলেন, কোনো ধরনের তদবির কিংবা সুপারিশ ছাড়া নিজের যোগ্যতায় সাতটি স্তর সফলভাবে অতিক্রম করার পর নিয়োগপত্র পাওয়ার মুহূর্তে তার সব স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছিলো। যে সময়টা হিজলা থানার ওসি তাকে জানিয়েছেন তোমার পরিবারের নিজস্ব জমি নেই, তাই তোমার চাকরিটা হচ্ছে না। এ কথা কানে আসতেই মনে হয়েছিল আমার মৃত্যু হচ্ছে। এ খবরটা তখন যে কতো কষ্টের ছিল তা বোঝাতে পারব না। কোনো কিছু না ভেবে ছুটে যাই ডিআইজি স্যারের কাছে। সেও তার অপারগতার বিষয়টি তুলে ধরেন। 

পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার পুরো বিষয়টি ছড়িয়ে পরার পর যখন বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমার কাছে ফোন আসে তখন তাদের কথায় মনে হচ্ছে যোগ্যতার একটা ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া আসপিয়া যাতে চাকরিটা পেতে পারে সেজন্য হিজলা থানা পুলিশও তাকে ডেকে থানায় নিয়েছিলো।

বরিশালের রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আকতারুজ্জামান বলেন, আসপিয়ার জন্য আমারও খুব কষ্ট হচ্ছে। আসপিয়া নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মেধাবী। তাকে পুলিশ বিভাগে পাওয়া গেলে ভালো হবে। কিন্তু পুলিশের চাকরিতে নিয়োগ হয় জেলাভিত্তিক। অবশ্যই জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেক মানবিক। প্রধানমন্ত্রী যদি সদয় বিবেচনায় আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন সেক্ষেত্রে আসপিয়া তার মেধার সঠিক মূল্যায়ন পাবে।

যোগ্যতা থাকার পরও ভূমিহীনরা চাকরি পাবে না পুলিশের এমন নিয়ম পরিবর্তনের দাবি করেছেন, সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) জেলার সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা। 

জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভূমি না থাকায় কারো চাকরি না হওয়া দুঃখজনক। তাই আসপিয়ার পরিবারকে হিজলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে জমিসহ ঘর তথা একটি স্থায়ী ঠিকানার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

পুলিশ কনস্টবল পদে সফলভাবে ছয়টি স্তর পার হয়ে মেধা তালিকায় পঞ্চমস্থানে রয়েছে আসপিয়া। গত ২৯ নবেম্বর ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন সেন্ট্রাল হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষায়ও আসপিয়া উত্তীর্ণ হয়। চূড়ান্ত নিয়োগের আগে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আসপিয়া ও তার পরিবারকে ভূমিহীন উল্লেখ করা হয়। এতে করে আসপিয়া ইসলাম কাজলের চাকরির স্বপ্ন ভেঙে যায়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়