ঢাকা, রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৯

নির্বাচন নয়, সংলাপও নয়, আবারও আগুন সন্ত্রাসের পথে হাঁটছে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৯, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের পক্ষ থেকে বারংবার অনুরোধের পরেও বিএনপি সংলাপে অংশ নেয়নি। মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবজ্ঞা করে তাঁর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে একে ‘সময়ের অপচয়’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে কোলে করে রাষ্ট্র ক্ষমতার গদিতে বসিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আপত্তি রয়েছে দলটির নেতা-কর্মীদের। জয়ের নিশ্চয়তা না পেলে কোনো নির্বাচনই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, ছহিহ্‌ বলে রায়ও দেবেন না বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এমন ফন্দি-ফিকির খুঁজছে দেশের অন্যতম বড় এই রাজনৈতিক দলটি।

মূলত নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলে পেছনের রাস্তা দিয়ে তারা ক্ষমতায় আরোহনের স্বপ্ন দেখছেন। বিপুল অর্থায়নের পরেও ভাড়ায় খাটা ব্যর্থ লবিস্ট ফার্মগুলো আজও বিএনপিকে স্বপ্ন দেখিয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত কূটবুদ্ধির যোাগানও দিচ্ছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যেমন ব্যাকডেট দিয়ে নিজেকে নিজেই পদোন্নতি দিয়েছিলেন ক্ষমতায় গিয়ে, ঠিক সেভাবে দলের থিংকট্যাংকদের বুদ্ধিতে খালেদা জিয়াকেও ব্যাকডেট দিয়ে একটি পদক দেওয়া হলো আজ।

কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (সিএইচআরআইও) খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি অ্যাওয়ার্ড’ সম্মাননা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (সিএইচআরআইও) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, বিএনপির দাবি ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। এসব নাটকের পেছনে উদ্দেশ্য একটাই, সম্প্রতি লবিস্ট ফার্মগুলোর পেছনে বিপুল অর্থায়নের মাধ্যমে বিএনপির দেশবিরোধী চক্রান্ত ফাঁস হওয়ার পর দলের কর্মী-সমর্থকরা পর্যন্ত দুয়ো দিয়েছেন দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি। দলত্যাগ এবং কার্যক্রম থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। এ মুহূর্তে দলকে চাঙ্গা করে তুলতে এবং ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে পদক নাটক সাজিয়েছেন মির্জা ফখরুল গং।

একইসাথে বিএনপির অপকর্ম ও ষড়যন্ত্র থেকে দেশের মানুষের দৃষ্টি ফেরানোরও একটি প্রচেষ্টা বলে একে আখ্যা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। যে সময় বাংলাদেশ সব সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নতি করছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি, একে একে ব্যর্থ হচ্ছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র, করোনাকালেও অর্থনীতি সঠিক পথে রয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ আসছে একে একে; ঠিক সে সময় বাংলাদেশকে ব্যর্থ এবং অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি নষ্ট করার প্রচেষ্টা ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না বিএনপি। আর তাই নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন দলের নেতারা।

উন্নয়নের মহাসড়কে থাকা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে আগুন সন্ত্রাসের বিকল্প নেই কানাডার আদালতে সন্ত্রাসী দল হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া বিএনপির সামনে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের চাইতেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস, সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, বিনিয়োগ এবং সকল উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে দেওয়া। আর এসব করতে পারলেই সরকারের পরিকল্পনা এবং রোডম্যাপ ব্যাহত হবে, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর হলে তাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে ভাড়াটে তথ্যসন্ত্রাসীরা দাবি করতে পারবে, জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা সাধারণ মানুষ দোষারোপ করবে সরকারকে, আখেরে এসব কিছুর লাভের গুড় চাটবে বিএনপি।

এগুলো কিন্তু তত্ত্ব-কথা নয়। আজও দেশের সাধারণ মানুষ ভুলতে পারেনি সেই বিভীষিকা। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির সেই নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট এখনকার মত। সেই বিরোধিতা থেকে সন্ত্রাসের রাজত্ব শুরু। হাজার হাজার যানবাহন ভাঙচুর করে তাতে আগুন দেয় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। সেসময় তাদের পেট্রোল বোমা, হাতে তৈরি বোমা এবং অন্যান্য সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ সদস্যসহ ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। সহিংসতার সময় রাস্তার পাশে থাকা হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা।

এছাড়া, ছোট দোকান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও আগুন দেয় তারা। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জা ভাঙচুর এবং পবিত্র কুরআনের শত শত কপি জ্বালিয়ে দেয়। নির্বাচনের দিন একজন প্রিজাইডিং অফিসারসহ মোট ২৬ জনকে হত্যা করে এবং সারাদেশে ৫৮২টি স্কুলে ভোটকেন্দ্রে আগুন লাগায় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা।

২০১৫ সালের ৪ঠা জানুয়ারি নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন আবারও জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে সন্ত্রাসের রাজত্ব শুরু করে বিএনপি-জামায়াত জোট। সেসময় ২৩১ জনকে হত্যা করে তারা। যাদের বেশিরভাগই পেট্রোল বোমা এবং আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায়। ওই ঘটনায় আহত হন আরও ১ হাজার ১শ’ ৮০ জন। সেসময় ২,৯০৩টি গাড়ি, ১৮টি রেলগাড়ি এবং ৮টি যাত্রীবাহী নৌযানে আগুন লাগিয়ে হামলা চালায় তারা। ওই সময় হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় সরকারি অফিসগুলো। আর বিএনপি-জামায়াতের ভাঙচুর এবং আগুনে পুড়ে ৬টি ভূমি অফিসসহ ৭০টি সরকারি কার্যালয়ের দলিল-দস্তাবেজ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মতে, বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল-অবরোধের প্রতিটি দিন দেশের ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (অথবা ১৯২.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বা জিডিপি’র ০.২ শতাংশ ক্ষতি হয়। এর অর্থ ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধে দেশের ১.৫৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থক্ষয় হয়। তবে সহিংসতার ক্ষয়-ক্ষতি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। অংকের হিসেবে সেই অর্থের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকারও বেশি।

সে সময়কার একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়। নীলফামারী জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আব্দুল মতিন তার বাবাকে হারান নিজ দলের কর্মীদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে। ২১শে জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা শেষে একটি ট্রাকে করে বাড়ি ফেরার পথে দিনাজপুরের কাহরোল উপজেলায় বিএনপি কর্মীদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হন মতিনের বাবা আব্দুল মালেক। ৬ দিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থেকে মারা যান তিনি।

বাবাকে হারিয়ে আব্দুল মতিন বলেন, আমি আর বিএনপির রাজনীতি করব না, যে দল করি সেই দলের ডাকা অবরোধ আমার বাবার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এমন সহিংসতার রাজনীতি আমি চাই না। যারা এমন সহিংসতা করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। [বিডিনিউজ২৪ ডটকম, ২৭শে জানুয়ারি, ২০১৫]

বিএনপি হলো সেই দল, যারা নিজ দলের নেতা-কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের লাশের ওপর দিয়ে হলেও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। এতই ক্ষমতার লোভ তাদের যে, রাষ্ট্রের শান্তি বিনষ্ট করে, হাজার হাজার মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে হলেও ক্ষমতায় যাওয়া চাই। তবে সেজন্য নির্বাচন, সংলাপ কোনো কিছুই তাদের পছন্দ নয়। মূলত তাদের জানের শত্রু আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে যে কোনো উপায়ে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে গদিতে বসার স্বপ্নে বুঁদ তারা। ২০১৩-২০১৫ পর্যন্ত যে গাইডলাইন অনুযায়ী ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল তারা, সেই একইপথে হাঁটছে বিএনপি।

প্রতিদিন মুখস্ত বুলি আওড়ান বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে। কথায় কথায় তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের সাথে আছে। যদিও মাত্র ক’দিন আগেই বিএনপির জানে-জিগরি সুহৃদ ডাকসু নেতা নুরু এক বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতেই বলেছেন, ‘বিএনপি যদি পারত, তবে ১২ বছরেই পারত। তাদের সেই ক্ষমতা নেই। সবাই বাহবা দিলেও রাজপথে নামে না কেউ।’ তার এই উপলব্ধি অমূলক নয়। বিএনপির মত একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে জনগণ কেন থাকবে? উন্নয়নের রোলমডেল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য বিএনপি কি আদৌ অপরিহার্য? তাদের শাসনামল কি দেখেনি জনগণ?

এখানে মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি-জামায়াতের সহিংস কর্মকাণ্ডের কথা কানাডার ফেডারেল আদালত একটি মামলার রায়ে উল্লেখ করা হয়। অটোয়াতে কানাডার ফেডারেল আদালতে (সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন, ২০১৭ এফসি ৯৪)- তে বলা হয়েছে, বিএনপি প্রকৃতপক্ষে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। আদালত মনে করে যে, বিএনপি হচ্ছে একটি দল যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে সশস্ত্র সংগ্রাম বা সহিংসতার আশ্রয় নেয়। সেখানে আরো বলা হয়েছে হাতবোমা, পিস্তল ও অস্ত্র ব্যবহার করে নেতৃস্থানীয় এবং জনগণের ওপর হামলা চালায় বিএনপি। এমনকি অগ্নিসংযোগের মতোও ঘটনা ঘটিয়েছে দলটি।

আদালত আরও বলেন, বিএনপি কর্তৃক হরতালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খুব খারাপ প্রভাব ফেলেছে যার ফলে সেবাভিত্তিক বাধা সৃষ্টি, সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি এবং জনগণের মৃত্যু এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি হয়েছে। এবং সরকারকে অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ফেলার লক্ষ্যেই হরতাল কার্যকর করতে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় বিএনপি যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

রায়ে আরও বলা হয়, এটি প্রমাণিত যে, বিএনপি একটি সমসময়ই একটি সন্ত্রাসী দল। এ বিষয়ে বিবিসি, এএফপি, কমনওয়েলথ স্টাডিজ ইনস্টিটিউট, ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন, ইকোনমিস্ট সাউথ এশিয়ান টেরোরিজম পোর্টাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএনপির হরতাল, অগ্নিসংযোগে মানুষের মৃত্যু ঘটানো, গ্রামগুলোতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, ভোটকেন্দ্রে হামলা, পথ শিশুদের দিয়ে বিস্ফোরক তৈরি এবং পেট্রোল বোমা ছোঁড়ারও কাজ করায় দলটি।

কানাডার সেই আদালতের বিচারপতি মি. ব্রাউন বলেন, বিএনপির ডাকা হরতালগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রচন্ড খারাপ প্রভাব ফেলেছে এবং এর ফলশ্রুতিতে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও মৃত্যু এবং এর মতো গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিএনপির দাবি দাওয়া সরকারকে মানতে বাধ্য করতে লাগাতার হরতালের কারণে সৃষ্ট সহিংসতা প্রমাণ করে, এটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বাইরে চলে গিয়েছে।

এখানেই শেষ নয়। কয়েক মাস পর কানাডার আরেকটি ফেডারেল আদালত বিএনপিকে পুনরায় ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে অভিহিত করে। বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী হরতাল ডেকে সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরাসরি জড়িত বিএনপির পলাতক নেতা মোহাম্মাদ জুয়েল হোসেন গাজী’র কানাডায় আশ্রয় প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করে তার বিচারিক পর্যালোচনা করার কথা বলেন ফেডারেল কোর্টের বিচারক মি. ফোথারগিল।

আদালত পূর্ববর্তী অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বিচারপতি বলেন, আমি মনে করি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আবেদনকারী কানাডায় প্রবেশাধিকার পাওয়ার অনুপযুক্ত। কেননা এই দলটি সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিলো, আছে বা ভবিষ্যতে লিপ্ত হবে- এমনটি ভাবার যৌক্তিক কারণ আছে।

বিচারপতি আরও বলেন, বিএনপি’র হরতাল এবং এর প্রভাব বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায়, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে কোন ভুল ছিলোনা এবং ওই কমিটির সিদ্ধান্তও যথার্থ। বিএনপির ধারাবাহিক হরতাল এবং ওই সময় ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাগুলোর ফলে কানাডার অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তাকে এই সিদ্ধান্তে আসতে সাহায্য করেছে যে, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। কানাডার আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের যে সংজ্ঞা দেওয়া আছে তার আলোকে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই উপসংহারে এসেছে আদালত।

বিচারপতি মি. ফোথারগিল সেই মামলায় শুধু জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদন খারিজই করেননি বরং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য এসএ পিটিশনের আবেদনও খারিজ করে দেন।

এই ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট হয়, বিএনপির লক্ষ্য রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করা ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করা। তবে দলটি এবং তাদের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য এবং খাসলত দেশের মানুষ হাড়ে হাড়ে চেনে, জানে। ইতিমধ্যে তাদের মুখোশ খুলে গেছে দেশবাসীর সামনে। জনসমর্থন ‘শূন্য’ এর নিচে নেমে গেছে তাদের। আর তাই জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বিএনপি। যার অংশ হিসেবে আপাতত তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। দেশে মানবাধিকার নেই, রাজনৈতিক কর্মসূচি করা যাচ্ছে না, বাকস্বাধীনতা নাই- এসব দাবি করছেন বিএনপি নেতারা বাকস্বাধীনতার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে পত্রিকায় এবং গণমাধ্যমে বিবৃতি ও কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে।

আজ তাই সময় এসেছে, নিজেকে প্রশ্ন করুন- এমন একটি সন্ত্রাসনির্ভর, মেরুদন্ডহীন ও বিদেশি প্রভুদের পদলেহী রাজনৈতিক সংগঠনকে কি রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখতে চান???

সর্বশেষ
জনপ্রিয়