ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৫ ১৪৩১

দর্শনীয় স্থান: মতিরহাট মেঘনাতীর

ভ্রমণ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সেখানে ইলিশ নিয়ে দিনভর চলে মৎস্যজীবীদের ব্যস্ততা।রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ভয়কে জয় করে সমুদ্রে ধরা ইলিশ নিয়ে এখানেই ট্রলার ভেরায় জেলেরা।নদীর গা ঘেঁষে দিগন্তে মিলেছে সবুজ ঘাসের কার্পেট। মেঘনাতীরের বিশাল বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে এই প্রকৃতি। এখানে বেলাভূমিতে আঁছড়ে পড়ছে ছোট ছোট ঢেউ। সেই ঢেউয়ে হচ্ছে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। দিগন্তছোঁয়া খোলা আকাশ, মুক্ত বাতাস, বিস্তৃত বালুময় বেলাভূমি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এমন চমৎকার দর্শনীয় স্থানটির নাম মতিরহাট মেঘনাতীর।

লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের বিখ্যাত বাজার মতিরহাট মেঘনতীরেই দেখা মিলবে এমন নয়নাভিরাম দৃশ্যের। স্থানটি দর্শনার্থীদের কাছে বেশ উপভোগ্য। তাই ছুটির দিন, ঈদ কিংবা বিভিন্ন উৎসবে মানুষেরও উপচেপড়া ভিড় জমে সেখানে। বাজারের দুই পাশেই মেঘনার বিশাল চর থাকায় দুই পাশেই চিকচিক করা বালুপথে পা মিলিয়ে হাঁটতে পারেন দর্শনার্থীরা।

নদীতীরে গেলে আপনি নদীর বিশাল জলরাশি দেখতে পাবেন। পাশাপাশি জেলেদের ইলিশ শিকারের দৃশ্য দেখা যাবে খুব কাছ থেকে। দেখবেন ইলিশ ঘাট এবং সারি সারি নদীতে ভাসা ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা। শেষ বিকেলের ক্লান্ত সূর্য যখন বিদায় নিতে ব্যস্ত, তখন অধিক ব্যস্ততায় বাড়ির পথ ধরে রাখাল বালক, গরুর পাল, দুরন্ত শালিকের ঝাঁক আর শ্বেতশুভ্র বলাকার দল।

অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে গড়ে ওঠা এ স্থান ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে কাছের ও দূরের দর্শনার্থীদের। ভ্রমণপিপাসু বহু দর্শনার্থী ও ভ্রমণপিপাসু অনেক সংগঠনের পা পড়েছে মতিরহাটের মেঘনাতীরে। এখানকার সুন্দর সৈকত যে কারো মনের গভীরে নাড়া দেবে। বিশাল বেলাভূমি নিয়ে এখানে সৈকত জেগে আছে। যে কেউ চাইলে বেলাভূমির পথ ধরে হাঁটতে পারবে বহু দূর। ইচ্ছে করলে নদীতে গোসল করতেও কারো জন্য মানা নেই। এখানে সৈকত ও বেড়িবাঁধ দুটোই রয়েছে। আর নদীর পাড়ে নারকেল-সুপারির বিশাল বাগান তো আছেই।

কোথায় থাকবেন

মতিরহাটে এখনো থাকার মতো কোনো আবাসিক হোটেল গড়ে ওঠেনি। রাত্রিযাপনের জন্য অবশ্যই জেলা শহরকে বেছে নিতে হবে। জেলা শহরে উন্নত মানের বেশ কিছু গেস্ট হাউজ গড়ে উঠেছে। উন্নত মানের দুটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। বাগবাড়ির ঐতিহ্য কনভেশন ও স্টার গেস্ট হাউজ এবং চকবাজারের সোনার বাংলা আবাসিক রেস্টুরেন্ট ও মুক্তিযোদ্ধা হাউজ অন্যতম। সেক্ষেত্রে খরচ আসবে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

কোথায় খাবেন

সকাল বা রাতের খাবারটা গেস্ট হাউজেই সেরে নিতে পারবেন।দিনের বেলায় যেহেতু ভ্রমণে যাবেন, তাই মতিরহাটের মেঘনাতীরে তাজা ইলিশ দিয়ে দুপুরের খাবারও খেয়ে নিতে পারবেন। আর মহিষের খাঁটি দধির স্বাদটাও নিতে ভুলবেন না। চাইলে নদীতীরের ঘাট থেকে ইলিশ আর হোটেল বা দধির দোকান থেকে দধি নিয়ে আসতে পারবেন। এখানের ইলিশ যেমন তাজা, দধিও তেমন খাঁটি।

যাতায়াত

রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সড়কপথে বাসে করে কিংবা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চে করে চাঁদপুর হয়ে জেলার শহরের ঝুমুর স্টেশন, তারপর লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের যেকোনো গাড়িতে তোরাবগঞ্জ নেমে সেখান থেকে মতিরহাট সড়ক দিয়ে মেঘনাপাড়ে পৌঁছান। লঞ্চে গেলে খরচ পড়বে আসা-যাওয়া মোট ৮৯০ টাকা আর সড়কপথে বাসে করে গেলে মোট আসা-যাওয়ার খরচ পড়বে ৯৭০ টাকা।

ইট-পাথরে মোড়া শহরের যান্ত্রিকতা আর জীবনের জটিল সমীকরণে মন যখন হাঁপিয়ে উঠবে, তখনই প্রকৃতির এ অপরূপ স্বর্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে ছুটে যেতে পারেন আপনিও। আপনার ভ্রমণকে আরো বেশি রোমাঞ্চকর করতে চাইলে ঘুরে আসুন নদীতে জেগে ওঠা চর শামছুদ্দিনে। সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা খাল আর খড়কুটোর ঘর, চরের সবুজে মোড়ানো দৃশ্য দেখতে পাবেন খুব কাছ থেকে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়