ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮

ঝালকাঠির কাগজি লেবু এই মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি টাকা বিক্রির সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ১৪:০৩, ২১ জুলাই ২০২১  

ভিটামিন-সি যুক্ত রসালো লেবুর ঘ্রাণে মাতোয়ারা ঝালকাঠির ২২টি গ্রাম। চলতি মৌসুমে জমে উঠেছে ভিমরুলীর ভাসমান লেবুর হাটসহ জেলার বিভিন্ন হাট। এসব হাটে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে লাখ লাখ লেবু। পাইকাররা নৌকা থেকে লেবু কিনে গাড়িতে করে আড়তে নিয়ে বিক্রি করছেন। ঘ্রাণ ও রসের কারণে বরিশালসহ দেশের প্রায় সব জেলায় ঝালকাঠির কাগজি লেবুর চাহিদা ব্যাপক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাউকাঠি, শতদশকাঠি, ভিমরুলী, কাফুরকাঠি, আটঘর, গাভারামচন্দ্রপুর, পোষন্ডা, ডুমুরিয়া, খেজুরা, কীর্ত্তিপাশা, মিরাকাঠিসহ ঝালকাঠির ২২টি গ্রামের কৃষকরা গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করে নৌকায় ভিমরুলী বাজারে নিয়ে আসছেন। এরপর অপেক্ষমাণ পাইকাররা ট্রলারে বসেই লেবু কিনে রাখছেন। সেই লেবু ছোট-বড় ট্রাকে করে পাঠানো হচ্ছে সারাদেশে।

লেবুচাষিরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন কম হওয়ায় লেবুর দাম বেশি। গত বছর ১ পোন (৮০টি) লেবুর দাম ছিল ২৫০ টাকা, এবার তা ৪০০ টাকা। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এই দাম অব্যাহত থাকলে প্রায় তিন কোটি টাকার লেবু বিক্রি করা সম্ভব হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাষিরা এবার জমিতে ফালি কেটে লেবু চাষ করেছেন। একেকটি ফালি ১০০-১১০ হাত লম্বা এবং ৭-৮ হাত চওড়া হয়। প্রতিটি ফালিতে ২২টি গাছ লাগানো যায়। এভাবে এক বিঘায় লেবু চাষে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। বাজারে ভালো দাম থাকলে প্রতি বিঘায় লেবু বিক্রি হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

পাইকারি লেবু ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রহমান জানান, পটুয়াখালী থেকে ট্রলার নিয়ে ঝালকাঠির ভিমরুলী বাজারে আসেন তিনি। এরপর লেবু কিনে সেই ট্রলারেই পটুয়াখালী মোকামে পাঠান। সেখানকার বিক্রেতাদের সঙ্গে আগেই চুক্তি করা থাকে। কেনা দামের ওপর লাভ রেখে লেবু বিক্রি করা হয়।

তিনি আরো জানান, করোনাভাইরাসের কারণে লেবুর চাহিদা অনেক বেড়েছে। ঝালকাঠির কাগজি লেবুর জনপ্রিয়তা তো অনেক আগে থেকেই বেশি। এবার চাহিদা বেশি ও ফলন কম হওয়ায় দাম অনেক বেড়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য দামেই লেবু কেনা হচ্ছে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, এ জেলার কাগজি লেবু আকারে ছোট হলেও বেশ রসালো। কেমিক্যালমুক্ত হওয়ায় এর ভিটামিন-সি ও অন্যান্য গুণাগুণ বজায় থাকে। সঠিকভাবে লেবু চাষ ও কেমিক্যাল ব্যবহার না করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে লেবুচাষিদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়