ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩১

আশ্রয়ণের ঘর পেয়ে পাল্টে গেছে সালমা, তৈয়বাদের জীবন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:২০, ১১ জুন ২০২৪  

আশ্রয়ণের ঘর পেয়ে পাল্টে গেছে সালমা, তৈয়বাদের জীবন

আশ্রয়ণের ঘর পেয়ে পাল্টে গেছে সালমা, তৈয়বাদের জীবন

সত্তরোর্ধ সালমা বেগম। তিন সন্তানের জননী। সন্তানরা ছোট থাকতেই বিধবা হন সালমা। তখন থেকে ভিক্ষা করে সংসার চালান। ভিক্ষা করেই এক ছেলে, এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে রাবেয়ার বয়স ৪০ হলেও প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ে হয়নি। বাঁশ, কাঠ আর পলিথিন দিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় বানানো ঘরে মায়ের সঙ্গে থাকেন রাবেয়া। ঝড়-তুফান হলেই বাতাসে উড়ে যেত ছোট্ট ঘরখানা।

মানুষের কাছে হাত পেতে আবার জোড়াতালি দিয়ে চলত ঝুঁকিপূর্ণ জীবন। আবার কখন ঝড় এসে ছোট্ট ঘরটি লণ্ডভণ্ড করে দেয়, সে আতঙ্ক তাড়া করত মা-মেয়েকে। আশ্রয় নিয়ে প্রতিনিয়ত এমন দুশ্চিন্তায় থাকা ভিক্ষুক সালমা বেগম ঠিক তখনি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর পান। এতেই বদলে যায় তার এবং তার মেয়ের জীবনযাত্রা। এখন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পাকা ঘরেই বসবাস করছেন তারা। দুঃস্বপ্নকে পিছু হটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে হতদরিদ্র এই পরিবারটি।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার পূর্ব দরগাপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া সালমা বেগম এবং তার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। যেন আশ্রয়ের জন্য ঘরই স্বপ্ন ছিল তাদের, আর প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এই একটি ঘরই তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। 
কক্সবাজার  জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলার ৯ টি উপজেলায় হালনাগাদ নিরূপিত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯২৫। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম পর্যায়ে (১ম ধাপ) পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৬৬৪টি পরিবারের মধ্যে গৃহ নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলার ৬ টি উপজেলাকে (চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, কুতুবদিয়া) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেন। সম্প্রতি ৫ম পর্যায়ের ২য় ধাপে কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৭৫টি, ঈদগাঁও উপজেলায় ১৪৬টি এবং মহেশখালী উপজেলায় ৪০টিসহ সর্বমোট ২৬১ টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।যা প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করবেন। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কক্সবাজার জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন। এদিন লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ, কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও এবং ভোলা জেলার চরফ্যাশনে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ১৮ হাজার ৫৬৬টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর হস্তান্তর করবেন। সেই হিসাবে আগে ঘোষিত জেলা-উপজেলাসহ মোট ৫৮টি জেলা ও ৪৬৪টি উপজেলা ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত হচ্ছে।
উখিয়া উপজেলার আদর্শ গ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে বদলে গেছে স্বামী পরিত্যক্ত  তৈয়বা বেগমের জীবন। তিন সন্তান নিয়ে স্বামীর সঙ্গে গৌরবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। ৬ বছর আগে  তৈয়বাকে তালাক দিয়ে স্বামী আরেকটি বিয়ে করেন। এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে ঘর ভাড়া  দেবেন, সন্তানদের পড়াশোনা করাবেন, সেই চিন্তায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়  তৈয়বার।

ছুটে যান স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। তারা  তৈয়বার পরিস্থিতি দেখে তাকেও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। শুধু ঘরই নয়;  তৈয়বাকে সেলাই মেশিনের প্রশিক্ষণ, হাঁস-মুরগি লালনপালন, সবজি চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তার বড় ছেলেকেও ইলেকট্রিক বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।  তৈয়বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেলাই মেশিন  কেনেন।

এখন ঘরে বসেই পাড়ার লোকদের জামাকাপড় সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ঘরের সামনে লাউ, পেঁপে, লেবু, আমসহ হরেক রকমের গাছ লাগিয়েছেন। এসব বিক্রির আয় দিয়ে ছোট দুই মেয়েকে পড়ালেখা করাচ্ছেন। ঘরে খাট ও ফ্রিজ কিনেছেন। স্বামী ছাড়াই  তৈয়বা জীবনযুদ্ধে টিকে আছেন, স্বাবলম্বী হয়েছেন। 
সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ দুই ধর্মের মানুষ। আদর্শ গ্রাম প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন ভূমিহীন-গৃহহীন হিন্দু পরিবারও। একই প্রকল্পে পাশাপাশি ঘরে বসবাস করছেন হিন্দু-মুসলিম পরিবার। তাদের মধ্যে নেই কোনো ভেদাভেদ, নেই দ্বন্দ্ব, নেই ধর্মীয়  বৈরিতা। একে অপরের সুখদুঃখে পাশে থাকেন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়