ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

আমন ধানের ফলন বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রি’র কর্মশালা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩২, ১৮ জুলাই ২০২৩  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ অঞ্চলে আমন ধানের ফলন বৃদ্ধিতে করণীয়' শীর্ষক কর্মশালা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সহযোগিতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)।

গতকাল সোমবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ঐ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্রি এর রাইস ফার্মিং ‍সিস্টেমস বিভাগের প্রধান ড. মো ইব্রাহীম। এরপর মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সমস্যা ও প্রয়োজনীয় করনীয় নিয়ে একটি মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে কৃষক প্রতিনিধি, বীজ উৎপাদক ও ডিলার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. মো ইব্রাহীম বলেন, ১৯৭২ সালের তুলনায় বর্তমানে ধানের উৎপাদন ৪গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ধানের চাহিদা বাড়ছে। ধানের উৎপাদন স্থিতিশীল থাকলে হবে না। ধানের উৎপাদন কমলে খাদ্য নিরাপত্তায় পড়তে হবে। এজন্য ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। ধানের জাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্রচলিত শস্য বিন্যাস উন্নয়নের মাধ্যমে ধান ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। বর্তমান প্রজন্ম মাঠে গিয়ে কাজ করতে আগ্রহী নয়। এজন্য কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

ব্রি’র সিনিয়র লিয়াজোঁ অফিসার কৃষিবিদ মো. আব্দুল মোমিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএই এর সরেজমিন উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ মো. তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম, বিএডিসির বীজ ও উদ্যান বিভাগের সদস্য পরিচালক কৃষিবিদ মো মোস্তাফিজুর রহমান, ব্রি এর গবেষণার পরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান, ব্রি এর প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা বিভাগের পরিচালক ড. মো আব্দুল লতিফ, ময়মনসিংহ অ ল ডিএই এর পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক, বিনার গবেষণা পরিচালক ড. মো. আব্দুল মালেক।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো শাহজাহান কবীর বলেন, দেশের মানুষের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিকভাবে তৎ্পর থাকতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতে না পারলে আমাদের পরনির্ভরশীলতা তৈরি হবে যা কখনোই কাম্য নয়। বিশ্বব্যাপী চলমান সংকটে নিজেদের খাদ্য নিজেদের উৎপাদন করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। অধিক ফলনের জন্য বিজ্ঞানীদের পরামর্শ মতে মাটি অনুযায়ী উপযুক্ত জাত নির্বাচন করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্রি ২০৩০, ২০৪০, এবং ২০৫০ সালের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তা বাস্তবায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, গবেষণা সম্প্রসারণ সংযোগ বাড়াতে এই অঞ্চলে কর্মশালা ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এই আলোচনা থেকে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ মাঠে প্রয়োগ করা গেলে ফলন অবশ্যই বাড়বে।

কর্মশালার সভাপতি কৃষিবিদ মো তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, গবেষণা ও সম্প্রসারণের কার্যত সংযোগের মাধ্যমে আমরা চালের উৎপাদন ১৯৭১ সালের এককোটি টন থেকে ২০২৩ সালে এসে চার কোটি টনে উন্নীত করতে পেরেছি এটা আমাদের জাতীয় জীবনের এক অসামান্য অর্জন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়