ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৮

খালেদাকে মাইনাস করতে স্লো পয়জনিং করছেন ফখরুলরা: কাদের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ২৭ নভেম্বর ২০২১  

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে দলটির নেতারা স্লো পয়জনিং করছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গতকাল শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ‌্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ সন্দেহের কথা জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায় সরকারের নয়। দায় মির্জা ফখরুলদেরই নিতে হবে।’ 

গত বৃহস্পতিবার যুবদলের এক কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল প্রশ্ন তোলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কি স্লো পয়জনিং করা হয়েছে?

এ বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফখরুল সাহেব বলেছেন, বেগম জিয়াকে নাকি স্লো পয়জনিং করা হচ্ছে। আমি তাকে বলতে চাই, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে যে সুবিধা গ্রহণ করছেন বেগম জিয়া, এটা প্রধানমন্ত্রীর উদারতার কারণে। তার পাশে থাকেন আপনারা, ফখরুল সাহেবরা। তাকে যে খাওয়ায়, সে পরিবারেই লোক। তার আশপাশে সর্বক্ষণ ঘোরাফেরা করেন বিএনপির লোকেরা। আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারের কেউ তার পাশে থাকে না। তার ব্যক্তিগত পছন্দের চিকিৎসকরাই চিকিৎসা দিচ্ছেন।’

খালেদা জিয়ার পাশের লোকেরাই স্লো পয়জনিং করতে পারেন, এমন সন্দেহ করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘তার আশপাশের লোকেরা সব বিএনপির, পরিবারের, আপনারা। স্লো পয়জনিং যদি করে থাকেন, তাহলে পাশের লোকেরাই করতে পারেন। হুকুমের আসামি শেখ হাসিনা হবেন না, হলে ফখরুল সাহেব আপনি হবেন।’ 

মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনাদের পছন্দের লোকেরা চিকিৎসা করাচ্ছেন। এখানে আওয়ামী লীগকে জড়াচ্ছেন কেন? শেখ হাসিনা কেন হুকুমের আসামি হবেন? বেগম জিয়াকে আপনারা মাইনাস করার জন্য স্লো পয়জনিং করছেন কি না। সেরকম কিছু করবেন বলেই কি উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে আওয়ামী লীগের ওপর, শেখ হাসিনার ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছেন।’

মির্জা ফখরুলের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার জন্য এখন এত মায়াকান্না করছেন, কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করেন, তার জন্য দেখবার মতো কার্যকর ও অর্থবহ একটা মিছিল রাজপথে করার দুঃসাহস আপনাদের ছিল না। এটা দেখোতে পারেননি। কোন মুখে তার জন্য মায়াকান্না করছেন, লজ্জা করে না?’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারের কোনো দায় নেই। কিছু হলে এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে। মির্জা ফখরুল সাহেবদের নিতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, দেশের সংবিধান ও আইন দ্বারা দেশ পরিচালিত হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক নিয়ম-নীতির মধ্যে যতটুকু সম্ভব, তার সবটুকু সুযোগ বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার মানবিক হৃদয়ের কল্যাণে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়া বাসায় থাকছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেওয়ার সর্বোচ্চ সুযোগ পাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হতে পারেন খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু আইনের চোখে তিনি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার বর্তমান পরিচয় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।’

‘বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর উদারতাকে প্রতিহিংসা বলতে দ্বিধা করছেন না। বিএনপির কৃতজ্ঞতাবোধ নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তোলে। কিন্তু, এই দেশের রাজনীতিতে তারা প্রতিহিংসার জন্ম দিয়েছেন।’

এ সময় তিনি ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড, বিএনপির আমলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো নৈরাজ্য হলে তার প্রতিহত করারও ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আজকে মির্জা ফখরুল সাহেব বড় বড় কথা বলেন। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, কারো চিকিৎসার নামে জনগণকে জিম্মি করা যাবে না। কোনো ইস্যু সৃষ্টি করে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করবে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির আন্দোলন বিষয়ে আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশবিরোধী এই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে প্রতিহত করতে সারা দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে। যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে, আমরা তাদের সমুচিত জবাব দেবো।’

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ- দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়